বৃদ্ধাশ্রমের দুর্গারা আজ কাঁদবে নাকো আর
দশভুজা সেজেছে যে অন্নপূর্ণা রূপ,
ভিখারি আর গরিব জনের ভরাবে পেট আজ,
অন্ন রেঁধে পরিবেশন লাইনে সবাই চুপ।
কি ভেবেছ? অসহায় সব! কাঁদবে মুছে চোখ
পাল্টেছে দিন, সবাই মিলে অন্য পূজার হাঁক,
জ্যান্ত দুর্গা সব্জি কাটে রান্না করবে আজ
লক্ষ্মী সরো গনশা কেতো করছে হাঁক ডাক।
ফাঁকে ফাঁকে তবু দেখি নয়ন ভরা জল
কান দুটো যে শুনতে চাইছে মধুর স্বরে মা,
অন্তরাত্মা উঠবে কেঁপে বলবে খোকা আয়,
জানি আসবি নিতে আমায়, বিধাতা কয় – না।
ও মাসিমা! ভাবুক হলে হবে; কত কাজ
আজকে তোমরা জ্যান্ত দুর্গা কাগজ ভরা নাম,
শক্তিরূপে তোমরা আছো, একটু আশিস দাও
সন্তান এখন অনেক দূরে ফিরবে নাকো ধাম।
একদিন বুঝবে সন্তানরা সব বৃদ্ধাশ্রমে যাক
নাতিপুতি শিখছে সবই, তোমরা প্রস্তুত হও
এখন আর যে সেদিন নেই গো অন্যায়ের নেই মাপ,
তোমরাও আসবে বৃদ্ধাশ্রমে ভেবে সঠিক রও।
সারি বেঁধে বৃদ্ধ বৃদ্ধা দুর্গা দেখবে আজ
নিজেরা যে আসল দুর্গা শেষে খুঁজে পায়,
মণ্ডপ জুড়ে থিমের পুজো বৃদ্ধাশ্রমে মা
সুখের কান্নায় চোখ যে ভেজে, ছেলের মঙ্গল চায়।
মাঝে মাঝে ভাবতে বসে সব কি ছিল ভুল
মানুষ করতে পরিশ্রম আর ত্যাগের কথা থাক,
অসুবিধার সমাধান আজ বৃদ্ধাশ্রমের ঘর
পয়সা ফেল্লেই দায়িত্ব শেষ, নিঃশ্বাস ফেলা যাক।
বৃদ্ধাশ্রমের দুর্গা পারে সকল রকম কাজ
মহালয়ার চণ্ডীপাঠে চিন্তা হলো দূর,
কোমর বেঁধে রান্না করে লক্ষ্মী সরো বেশ
খাইয়ে যে সুখ শুনতে পেলো জয় মা দুর্গা সুর।
