Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » কুন্তী || Manab Mondal

কুন্তী || Manab Mondal

অরুনিমার সিদ্ধান্ত শুনে সবাই অবাক। কিন্তু কেউ ওর পাশে থাকছে না। কিন্তু ওর বৌদি পাশে থাকবে বললো। আমি ওর দাদা চাইলে আমি তনুকে বাধা দিতে পারতাম। কিন্তু পারলাম না। হু অরুনীমার সিদ্ধান্ত টা ভয়ঙ্কর। ওর সিদ্ধান্ত জন্য সমাজের কাছে মুখ দেখাতে পারবো না। তবুও ওর সিদ্ধান্ত পাশে আমি না থাকলে ও তনুকে ওর পাশে থাকা থেকে বিরত থাকতে ও বলতে পারি না।

আপনারা জানেন আমি অফসোরে কাজ করি। আমার স্কুলের বন্ধু সুজন। ইটিও মানে ইলেকট্রিকাল অফিসার বা জাহাজের বাত্তি সাফ। অরুনিমাকে দেখে ওর ভালোলেগে ছিলো। প্রেমে প্রস্তাব দেয় ওকে। রাজী না হবার কোন কারণ ছিলো না। উচ্চ বেতনের চাকরি। আমি তো তখন ভেগা বন্ডের মতো ঘুরে বেড়াই। অরুনীমার কলেজ ভর্তি থেকে সানক্রিম কিনে দেওয়া। বাবার চিকিৎসা খরচ সব ও দিতো। পরে আমাকে ঐ অফসোরের চাকরিটা দিলো। মোটামুটি ভাবে সুজন শুধু অরুনীমার নয়, সব সময় আমাদের পাশে থাকা মানুষ।
কিন্তু এবার ঘটনাটা দুঃখ জনক। বিয়ের পর বিদেশে চাকরি করবে না বলেছিলো ও। একটা রেস্টুরেন্ট খুলে নিয়েছিলো আর একটা ইলেকট্রিকাল স্কুটির ডিলার সিপ নিয়েছিল। এমনিতে তো ওর পয়সার অভাব নেই। তাছাড়া অরুনীমা এখন সরকারি চাকরি পেয়েছে। তাই অরুনীমার সিদ্ধান্ত ছিলো। বিয়ের পর ওদের সন্তান জন্ম থেকে তিন বছর সুজনকে ওর পাশে পাশে থাকতে হবে নয়তো ও ওকে বিয়েই করবে না। তাই বিয়ে করা জন্য একা ওর লাস্ট কন্টাক্ট ছিল।

আমাদের কিন্তু 90 দিন সাইন অফ। অফসোর মানে সমুদ্রের মাঝে কাজ। বিপদ আপদ মানে কোন হলে কোথাও কোন সাহায্য পাওয়া যায় না। তাই এখানে কাজ করতে হয় অনেক নিয়ম মেনে। অনেক নিয়ম আছে। সেফটি রলটা এর মধ্যে খুব ইমপর্টেন্ট। যেমন ধরুন কনফাইন্ট প্লেস। মানে যেখানে সহজ হাওয়া বাতাস চলে না। বিশেষ করে ওখানেই H2S গ্যাস থাকে।
বিজ্ঞানের ছাত্র না হলেও আপনি H2S গ্যাস কতোটা ভয়ঙ্কর আপনি জানেন। গ্রামের দিকে পরিত্যক্ত কুয়ো তে। কুকুরের বাচ্চা, বিড়ালের বাচ্চা খেলে দেওয়া একটা বর্বর প্রথা আগে। ওখানে ফেলেই সাথে সাথে বাচ্চা গুলো মরে যায় ঐ H2S গ্যাসের প্রভাবেই।
কথা বলছিলাম কনফাইন্ট প্লাস নিয়ে। ম্যানহোল একটা কনফাইন্ট প্লাস। যেমন ম্যানহোল” (manhole) । এই শব্দটি মূলত ইংরেজি ভাষার দুটি শব্দ “man” (মানুষ) এবং “hole” (গর্ত বা ছিদ্র) এর সমন্বয়ে গঠিত।
শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘মানুষের গর্ত’, অর্থাৎ এমন একটি প্রবেশপথ যা দিয়ে একজন মানুষ ভূগর্ভস্থ নর্দমা, পাইপলাইন বা ইউটিলিটি ভল্টে প্রবেশ করতে পারে।এই গর্তগুলি প্রধানত ভূগর্ভস্থ পরিষেবাগুলি যেমন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু এই কাজগুলি সাধারণত শ্রমিকদের (man) দ্বারাই সম্পন্ন হতো, তাই এই প্রবেশপথগুলিকে “ম্যানহোল” বলা শুরু হয়। মনে করা হয়, প্রথম ‘ম্যানহোল’ রোমানদের দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছিল, যারা স্যানিটেশন ব্যবস্থায় উদ্ভাবনী ছিলেন।
যাইহোক জাহাজে বা অফসোর এরকম অনেক ম্যান হোল থাকে। সাধারণত এই সব জায়গায় কাজ করতে তিন জন যেতে হয়। পরদিন সকালে সুজনের সাইন অফ। চাকরিতে সংরক্ষণ প্রথা কতোটা ভয়াবহ সেটার উদাহরণ সুজন। ওর রিলিভার একজন আরবি। সরকারি আইন অনুযায়ী লোকটাকে নিতে বাধ্য হয়ছে কম্পানি। কোন কাজ করতে জানে না। তাই বার্জ ক্যাপ্টেন অনুরোধ করেছিলো। রাতেও কিছু কাজ করে যেতে। আর রাতে লোক জন কম। এটাই বিপদের কারণ হলো। ওর হেল্পার ট্যাঙ্কে আটক গেছে দেখে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে, ও নিজেই মৃত্যু কোলে ঢলে পরলো।
ও এলে তবে অরূনীমার সাথে ওর বিয়ে হতো। কিন্তু ওর মৃত্যুর খরব চেয়ে ভয়ঙ্কর খবর অরুনীমা গর্ভবতী। আর ও ঐ সন্তানকে জন্ম দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ও সুজনের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে চাই। সব সময় ওর পাশে থাকা মানুষটার ভালোবাসার চিহ্নকে ও মুছবে না। আমি ওকে অন্য কাউকে বিয়ে করতে বলেছিলাম সেটাও করলো না। সমাজ নানা কুকথা শুনেও তনুশ্রীর ওর পাশে থাকাটাকে আমি সমর্থন করেছি মনে মনে।

শেষ সেইদিনটা এলো, কিন্তু সুজনের বাচ্চাটাকে পৃথিবীর আলো দেখাতে গিয়ে, অরুনীমা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো। ফুটফুটে বাচ্চা। ছেলে হয়েছে শুনেই ye সুজনের বাড়ির লোক জন সুজনের সন্তানকে নিতে এলো। যাদের এতোদিন কোন খোঁজ খবর ছিলো না। তাই তনুশ্রী ওদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে বললো এই সন্তানকে সে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করবে। আমিও ওর সিদ্ধান্ত পাশে দাঁড়িলাম শক্ত ভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *