Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » কল্লোলের চোখে কবির গান || Ratna Sengupta

কল্লোলের চোখে কবির গান || Ratna Sengupta

একসঙ্গে অনেক লোকের জটলা হলে যা হয়। ছেলেমেয়ে গুলো একটা সভা করছে বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু চিৎকারের জন্য কথা গুলো স্পষ্ট হচ্ছে না। সম্পাদক যতীন শেষে চুপ থাকতে পারল না।
থামো তোমরা আসল কথা সেরে নিই।

এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তীতে নাচ গান কবিতার সাথে একটা প্রতিযোগিতা রাখবো। রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে লিখে আনবে, প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় সম্মাননা থাকবে।

পটলা তুই মাঠ পরিষ্কার করে রাখবি। ঠিক আছে, সন্ধ্যা আল্পনা মীনা বুলু সবাই কোরাস গানের চর্চা করতে চলে গেল।

রাতে কল্লোল কলম নিয়ে লিখছে , না সবাই যা লিখবে তা কল্লোল লিখবে না। একটু অন্যভাবে লিখবে।

রবীন্দ্রনাথের গানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। বৈচিত্র্যপূর্ণ ভাণ্ডার।গানকে প্রাথমিক ভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। গীতধর্মী ও কাব্য ধর্মী। গীতধর্মী গানের রচনাস্থল হলো বিভিন্ন প্রাদেশিক সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত, পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সুর ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। এই ধারার উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতগুলি ঠাকুরের শিক্ষানবীশ কালের রচনা তাই অনুকরণের ছাঁপ রয়েছে। এখানে সুর মুখ্য কাব্য গৌণ।
ভাঙ্গাগান গুলি গীতধর্মী হলেও কাব্যমণ্ডিত কারন সুরবিন্যাসের বাহুল্য গুলো ঠাকুর গ্রহণ করেন নি।

রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব সঙ্গীতসৃষ্টি কাব্যধর্মী। ধ্রুপদ গানগুলি ধর্মসঙ্গীতের অন্তর্গত।

গীতবিতান গ্রন্থে পূজা প্রেম প্রকৃতি বিচিত্র আনুষ্ঠানিক গানের বিভাগ কাব্যধর্মী পর্যায়ে শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছে।

একি মা লাইট নেভালে কেন। আমাকে এই লেখা জমা দিতে হবে।
ব্যস আর না এবার ঘুমাও। কাল তোমায় ভোরে উঠতে হবে।

১৮৮১-থেকে ১৯০০ কুড়ি বছর রবীন্দ্রনাথের শিক্ষানবীশ যুগ বলা যায়। তিনি বিষ্ণু চক্রবর্তী শ্রীকণ্ঠ সিংহ যদু ভট্ট শ্যামসুন্দর মিশ্রের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
১৮৯১ সালে নিজস্ব রচনা ‘নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে’ পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ কে শুনিয়ে পাঁচশত টাকার চেক উপহার পান।

ব্যস এইটুকু লেখাই কাল প্রতিযোগিতাতে জমা দেবে।
১৯২১-১৯৪১ সালএকুশ বছর শেষ যুগ বা সৃষ্টির যুগ। এই যুগের সঙ্গীতে রাগরাগিণী ও কাব্যরসের গঙ্গা যমুনার মেল বন্ধন হলো। এই গান গুলি পরিক্ষা করলে দেখা যাবে অন্যান্য সঙ্গীতের প্রভাব থেকে মুক্ত।

১৯২৫ সালে ও ১৯৩১ সালে পাঁচটি হিন্দি ভাঙ্গা ও চারটি মাদ্রাজী সুর ভাঙ্গা গান পাই। শেষ যুগে পরিণত বয়সে নানা পরীক্ষার মাধ্যমেতিনি যে সব সঙ্গীত সৃষ্টি করলেন তাই হলো প্রকৃত বৈশিষ্ট্য রবীন্দ্র সঙ্গীত।
এই সময় কবি বিভিন্ন নৃত্যনাট্যের মধ্য দিয়ে গান ও নাচের সমন্বয় সাধন। রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা শ্যামা উল্লেখযোগ্য।

রবীন্দ্রনাথের ধর্মসঙ্গীত প্রেম সঙ্গীত ঋতুসঙ্গীতের পর্যালোচনা করলে গানের ভাবধারা বোঝা যায়।
১৮৬১-১৯৪১ সাল ৬১বছর রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত রচনার সময়কাল বলে ধরে নিতে পারি।

কবিগুরুর নিজের সুর দেওয়া প্রথম সঙ্গীত রচনা খুব সম্ভবত “নীরব রজনী দেখ মগ্ন জোছনায়” গানটি।

১৯৪১ সালে শারীরিক অসুস্থতার জন্য পূর্ব রচিত দুটি কবিতার অংশবিশেষ সুর দেন।
*ঐ মহামানব আসে (বাংলা নববর্ষের জন্য)
*হে নুতন দেখা দিক আরবার(রবীন্দ্র জন্মদিনের জন্য)।

পরিশেষে বলি ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারনে সুরের ধারা বাহিকতা বা বৈশিষ্ট্যতা যদি রক্ষা না করতে পারা যায় তাহলে খুব দুঃখের। স্বয়ং কবিগুরু তার গান বিকৃতভাবে যেন না গাওয়া হয় বারে বারে বলেছেন।

কবি ভানুসিংহ ছদ্মনামে বৈষ্ণব পদাবলীর অনুকরণে মৈথিলী ব্রজবুলি ভাষায় রচিত পদ অধিকাংশ রচিত হয়েছে ১৮৭৭- ১৮৮৪ সালের মধ্যে। কবির ষোলো থেকে পঁচিশ বছর বয়সের মধ্যে।

রবীন্দ্রনাথ ‘জীবন স্মৃতি’ তে লিখেছেন – “গাছের বীজের মধ্যে যে অঙ্কুর প্রচ্ছন্ন ও মাটির নীচে যে রহস্য অনাবিষ্কৃত তাহার প্রতি যেমন একটি একান্ত কৌতুহল বোধ করিতাম, প্রাচীন পদকর্তাদের রচনা সম্বন্ধেও আমার ঠিক সেই ভাবটা ছিল।

না আর লিখব না ভীষণ ঘুম পেয়েছে। হাই তুলে কল্লোল ঘুমাতে গেল।
পরের দিন দুকলম জুড়ে দিল
রবীন্দ্র নাথ ছয়টি নতুন তালের গান সৃষ্টি করেছিলেন। ষষ্ঠী, ঝম্পক, রূপক্ ড়া, একাদশী, নবতাল ও নবপঞ্চ।
এছাড়া শিশু সঙ্গীত, বেদগান, টপ্পা, খেয়াল ও ঠুংরী, উদ্দীপক সঙ্গীত, ভাঙ্গা গান, লোকসঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান

লেখার পাতা ফুরিয়ে যাবে। তাই কবি তোমায় প্রণাম করে এখানেই শেষ করি।

পরের দিন সকালে সবার আগে লেখা জমা দিয়ে কবির ছবির সামনে প্রণাম জানিয়ে বলে গঙ্গাজলে গঙ্গা পুজো করলাম কবি। তোমার বই পড়েই লিখলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *