অন্যরকম শ্রাবণ
এবারের শ্রাবণ অন্যরকম। অবিরাম বৃষ্টিতে প্রকৃতির অবয়বে ক্লান্তি মাখা। মনে মেঘ জমছে গায়ত্রীর। ক্লান্ত দুচোখ অশ্রু ঝরে পড়ছে। এমনই বৃষ্টিস্নাত দিনে তার স্বামী প্রিয়তোষ বাবু স্বর্গলোকে যাত্রা করেছিলেন। সামনেই স্বাধীনতা দিবস তার তোড়জোড় চলছে। দেশাত্মবোধক গান বাজছে। চারিদিকে কতো আয়োজন। গায়ত্রী দেবীর তিন সন্তান। দুই পুত্র এক কন্যা। সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় কন্যা ও বড় ছেলে কাজের সূত্রে বাইরে থাকে। ছোট ছেলে অভিরূপ কাছে থাকেন। অভিরূপ পৈত্রিক ব্যবসা সামলায়। স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তির মালিক এখন সে নিজে।
প্রিয়তোষ বাবু একদম শূন্য থেকে ওপরে উঠেছেন। এই তিল তিল করে সাম্রাজ্য গড়ার পিছনে গায়ত্রী দেবী অনেক অবদান ছিল যা প্রিয়তোষ বাবু ভোলেন নি। উনি বেশ কিছু সম্পত্তি তার নামে রেখে যান। যাতে গায়ত্রী দেবী যতদিন বাঁচবেন স্বাধীন ভাবে থাকবেন। আজ সেই স্বপ্ন সফল হলো কোই। স্বামী চলে যেতে সবকিছু যেন রাতারাতি বদলে গেলে। প্রায় গায়ত্রী দেবী অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সময় সুযোগ বুঝে তার আলমারি থেকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না চুরি যায়। নার্সিংহোম থেকে ফিরে এসে তিনি আর খুঁজে পান নি। হায় রে বিধাতার কী বিধান! যে বেশি ভালোবাসে তাকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতে হয়! যার টাকা গয়না হারালো তাকেই আজ গৃহবন্দী করা হলো। যে চুরি করলো সে মহানন্দে ঘুরছে। এই ঘটনার পর তার ছোট ছেলে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিল। এমন কি তার স্বামী সরকারি চাকরি করতেন , সেই পেনশনের টাকা আজ গায়ত্রী দেবী পান না। তার ছোট ছেলে সব বন্ধ করে দিয়েছে। টাকা হারিয়েছেন মা, তাই মা কে আর টাকা হাতে দেওয়া হবে না। কারণ তার আরও সন্তান থাকতে ছোট ছেলে সবকিছু দায়িত্ব নিয়েছে। তাই ছোট ছেলে যা বলবে সেটাই মানতে বাধ্য গায়ত্রী দেবী।
আজ বৃষ্টির কী হলো? একনাগাড়ে কেঁদেই চলেছে। অনর্গল চোখের জল ফেলছেন গায়ত্রী দেবী। এরই নাম কী স্বাধীনতা। আমরা কী সত্যিই স্বাধীন এই ভারতবর্ষে। বিধবা মা তার স্বামীর পেনশন থেকে বঞ্চিত হন এই আধুনিক স্মার্ট ফোনের যুগে।
