শেষ চিঠির অপেক্ষা
গানের প্রতি টান সেই ছোটো থেকেই নাজিমার। আলাপ করতেন ছাতে বসে লিলি বেগম। আর কান পেতে শুনতো ছোটো নাজিমা। তার আব্বু বলত পড়াশোনা করো ঠিক করে, তোমাকে উকিল হতে হবে। বোঝে নাজিমা বাড়ির অংশ বুঝে নিতে হবে। উকিল ধরার মত অবস্থা নেই। পাড়াটা মিলেমিশে, তাই বাইজিদের অবস্থান এখানে কিছু কিছু।
আয়নার সামনে সে রোজ রেওয়াজ করত নকল করে। একদিন ছাত থেকে হাত নেড়ে লিলি বেগম বলে। তুমি ওখান থেকেই গান শেখো। তোমার আব্বু জানতে পারবে না। আমি একটা করে আলাপ দেবো তুমি পরের দিন শোনাবে।
চলতে লাগল এই ভাবে। কিন্তু বাড়ি বিক্রি হয়ে ভাগ বাটোয়ারা শেষ হলো, চলে যেতে হবে।
যাবে না নাজিমা। সে শিল্পী হতে চায় কথা দেয় লেখাপড়া শেষ হলেই লিলি বেগম
তাকে ডেকে নেবে। মস্ত শিল্পী হবে। তবে বেটি যা শিখিয়েছি সেটাই অনুশীলন করবে তাহলেই হবে। অন্য পাড়ায় চলে যাবার পর একটুও গুরুমাকে ভোলে নি। রোজ রেওয়াজ করেছে। দরজার দিকে চেয়ে আছে চিঠির অপেক্ষায়। বছরের পর বছর কেটে গেল। চিঠি আর এল না। এখন নাজিমা বাইরের অনুষ্ঠান করে একটু আধটু। স্মৃতি হাতড়ে বৃ্দ্ধ ড্রাইভারকে সঙ্গে নিয়ে আগের পাড়ায় গিয়ে চিনতে পারেনি। তাদের বাড়ি নেই। পুরো পাড়া জুড়ে অট্টালিকা।
ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। আর কি আশ্চর্য একটি ছেলে নীল খামে লিলি বেগমের শেষ চিঠি এনে দিল। যার অপেক্ষায় বড় হলো, সে এসে ধরা দিল। বেটি তুমি অনেক বড় হবে আমার দোয়া রইল। জীবনআয়ু কম। ক্যান্সারে আমি মরণাপন্ন। তুমি নিজের পায়ে দাঁড়ালে এই চিঠি তোমার হাতে তুলে দেবে এই নির্দেশ দিলাম।
এগিয়ে যাও সামনের দিকে। আমার আশীর্বাদ তোমার সাথে রইল। চোখের জলে বুক ভেসে যায়। আজ সে শিল্পী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত আর এই সময় লিলি বেগম দুনিয়াতে নেই। শেষ চিঠি পাওয়ার অপেক্ষা আজ শেষ হলো। লিলি মার ইচ্ছা পূরণ করতেই হবে। সে এগিয়ে যাবে তার শেখানো রাগ রাগিণীকে অবলম্বন করে।লিলি বেগমের নাম সবার সামনে আনবে।
