দুঃখের কথা বলি শোনো
পোড়া শরীর কেন আমার,
ভাগ্য জোরে প্রাণে বাঁচি
ঝাঁপিয়ে জলে অলক্ষ্যে সবার।
জন্মেছিলাম হিন্দু ঘরে
ছিলাম কত যত্ন আদরে,
মা মরেছে জন্মাই যখন
বাপটা কষ্টে বড় করে।
কুলীন পিতা কুল মর্যাদায়
দিলেন বিয়ে বুড়োর সাথে,
আচার বিচার নিয়ম মেনে
খাটুনি করি দিনে রাতে।
কয়েক মাস হ’লে গত
স্বামী অসুস্থ বাড়াবাড়ি,
আরও মাস তিনেক পরে
স্তব্ধ হলো তাঁর জীবন নাড়ি।
আমার তখন উঠতি যৌবন
ভাঙলো জীবনে সুখের হাট,
খই ছিটিয়ে শবের সাথে
নিলো আমায় শ্মশান ঘাট।
গুঁড়িয়ে শাঁখা বসালো চিতায়
উঠলো বেজে শতেক শাঁখ,
লোকের ভিড়ে তিল নেই স্থান
বাজলো জোরে খোল ও ঢাক।
জ্বলছে চিতার কাঠে আগুন
জ্বালায় প্রাণ মোর ছটফটায়,
আচম্বিতে ঝড়বৃষ্টি এলে
চিতা ভেঙে ভূমে লুটায়।
হৈ হৈ হৈ চিৎকার রোলে
ঝাঁপিয়ে জলে সংজ্ঞা হারাই,
জেলের মেয়ে নৌকা করে
নিয়ে আমায় ঘরে লুকায়।
সংজ্ঞা এলে নয়ন মেলে
দেখি শুয়ে কুটির মাঝে,
সহমরণ হতে বেঁচে
গোপনে থাকি সকাল সাঁঝে।
আগুনে রূপ গিয়েছে জ্বলে
জেলেনির দয়ায় পেয়েছি ঠাঁই,
জানলে তো কেন পোড়া শরীর
ভাগ্য আমার মন্দ যে ভাই।
