যুগে যুগে নারীগণ সহে অবহেলা
তবুও কর্তব্য কাজে থাকে অবিচল
পরিবার তার কাছে হয় অতি প্রিয়
নিজের জন্য ভাবেনা আজীবন কাল ।
মূল্যহীন কত মেয়ে নিভৃতে যে কাঁদে
গোপনেতে অশ্রুজল ফেলে সে নীরবে
নিয়মিত সেবাকাজে ব্যস্ত সর্বক্ষণ
নারীর জীবন গাঁথা এরূপ সতত।
স্রোতস্বিনীর মতোই বয়ে চলে দিন
প্রয়োজন ছাড়া কেউ নেয় নাতো খোঁজ
সংসারের জোয়ালটা রাখা কাঁধে তার
তাই টেনে বেলাশেষে দেখে বাঁকা চাঁদ ।
নিজ ভালো বিসর্জন দেয় প্রতিক্ষণ
অন্যকে রাখতে ভালো সচেষ্ট সদাই
তবুও অপরাধের তকমা কপালে
কটুক্তি করতে দ্বিধা করে নাতো কেউ।
পণের কারণে কত নারীর লাঞ্ছনা
নিশ্চুপ থেকেই সহে যন্ত্রণা সকল
সবাই উপেক্ষা করে সতত গঞ্জনা
প্রতিবাদ করলেই জোটে অপমান।
দিনের পর দিন তা হয় প্রবাহিত
আগ্নেয়গিরির লাভা সম জ্বলে বুক,
মনে ক্ষত বারোমাস অবদমিত সে,
জীবন বিতৃষ্ণ হয় হীনভাব মনে।
এভাবে অবদমিত নারীর সম্মান
মূক বধির অন্ধত্ব হয়ে বেঁচে থাকা
স্বাধীনতা যেন বাঁধা অদৃশ্য নিগড়ে
সবাই সবটা দেখে তবু থাকে চুপ।
বিষাক্ত জীবন সদা অতল আধার
ভেসে থাকা আজীবন খুঁজে নিজ বাড়ি
বাপের বাড়ি,শশুর বাড়ি, সন্তানের
বাড়ি। অবশেষে ঠাঁই তার বৃদ্ধাশ্রম।
