তপ্ত নিদাঘ চৈত্র শেষে খাল বিল সব ক্ষীণ,
এলো বৈশাখ দাবদাহে প্রাণ হাঁস ফাঁস সারা দিন।
তপন আতপে জ্বলছে ধরণী ক্লান্ত পথিক জন,
মরুভূমি সম তাপাধিক্যতে পাগলের প্রায় মন।
ভ্যাপসা গরমে দিশেহারা লাগে নাভিশ্বাস সবার,
কি দুর্দশায় কাটে যে প্রহর সহ্য হয়না আর।
ধু ধু চারিধার ‘লু’ অনিবার বহে বহ্নিসম বায়,
ক্লান্ত শ্রান্ত জীবন ওষ্ঠাগত ‘লু’ -র হলকায়।
দারুণ অগ্নিবাণেতে ধরায় ত্রাহি রব সবখানে,
তপ্ত দুপুরে চাতক কাতরে ডাকে চেয়ে নভ পানে।
রূদ্রের তেজে কার্পাস মেঘ ভাসে নীর হীন ছেঁড়া,
কঠিন পৃথ্বী খরা কবলিত ফুটিফাটা মাটি চেরা।
বিহঙ্গকুল তরুলতা সব দিনমণি তেজে ম্লান,
হলে বরিষণ ধরার বুকেতে স্বস্তিতে বাঁচে প্রাণ।
জল তল হায় নেমেছে গভীরে উষ্ণায়ণেতে হায়,
ছটফট প্রাণ স্বেদ ভেজা তন টেকা আর নাহি যায়।
বধূ নদী বাঁকে চলে ঘড়া কাঁখে নদী যেন মরা সোঁতা,
হাটু জলে ঘড়া কোনোমতে ভরা জলাভাব সর্বথা।
নদী চর খালি চিকচিক বালি চড়ে বক হেথা হোথা,
গাঙচিল এক নদী জল মাঝে ডাক ছাড়ি যায় কোথা।
দূরে দেখি চেয়ে খেয়া বেঁধে ঘাটে গৃহে ফিরে চলে নেয়ে,
চাঁদি ফাটা রোদে দ্রুতগতি চলে ঘাম ঝরে গা বেয়ে।
আতপের ঝাঁঝে মেদিনী তরাসে জলভরা মেঘ যাচে,
হে অম্বুধর ঢালো বারি ধারা জীবকুল যেন বাঁচে।
