আমার মাকে আমি কখনো রঙিন শাড়ি পরতে দেখিনি
কখনো গয়না পরতে দেখিনি ,কখনো সাজতে দেখিনি
মায়ের কোন সখ আল্হাদ ও দেখিনি –
দেখেছি মায়ের চোখে কর্তব্যের আগুন-অঙ্গীকার,
বুকের গভীরে নিঃশব্দে আর্তনাদ
মা – আমি কিছুই দিতে পারিনি –
ভাল জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যেতে পারিনি
কিছু উপহার দিতে পারিনি,
সকলের সব প্রয়োজন মিটে গেছে সব
কেবল মায়ের কিছুতে প্রয়োজন হয়নি
মায়ের কোন কিছুতেই প্রয়োজন হয় না
শুধু কর্তব্যের যন্ত্রণায় মায়ায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে সব ,
ভেসে যাওয়া মেঘের চোখে –
একদিন মুছে গেছে সব ভোরের শিশির- আকাঙ্ক্ষায়
আজও ভোরের শিশিরের সাথে শীত এলে –
খেজুর রসের গন্ধ নিয়ে , চাল কোটার শব্দ নিয়ে
তুলসী তলায় সন্ধ্যার প্রদীপ হাতে
বর্ষার দুপুরে কাঁথা শিলাইয়ের অখণ্ড অবসরের মত
জৈষ্ঠে, পাকা আমের গন্ধে
ভাদ্রের তাল পড়ার শব্দের সাথে
ফিরে ফিরে আসে আমার মা –
আমাদের বাগানে বকুলের গন্ধ বয়ে আনে প্রাণে,
তখন মা আমাকে সব দিয়ে যায়, এখনও ।
