আপন বলতে আমার কেউ নেই।
তবু খুঁজেই চলেছি এতকাল,
গ্রামগঞ্জের মাটির ঘর থেকে
শহরতলীর কানাগলি এক করে
খুঁজেই চলছি,
অক্লান্ত পায়ে হেঁটে হেঁটে আজ যে আমি ক্লান্ত,
সত্যিই খুব ক্লান্ত।
তবু বসে থাকলে চলবে না,
হেরে গেলে চলবে না,
হেরে যাওয়া মানুষকে যে
কেউ আপন বলে পরিচয় দেয় না।
আপন বলতে আমার কেউ নেই।
আপন কাউকে পাইনি খুঁজে আজও,
যে শুনবে আমার বাসি-পান্তা গল্প।
সেসব গল্পের বোঝা ঘাড়ে নিয়েই
আমি পাড়ি দেবো দূরে, অন্য কোনো শহরে,
কিন্তু রাতের অন্ধকার প্লাটফর্মে যে
আমি ছাড়া আর কেউ নেই!
নির্জন অন্ধকারে আশা হয়ে এলো
ট্রেনের আলো, হুইসেল ছাড়াই,
বোধহয় ট্রেনেরও আমার সাথে কথা বলার
কোনো ইচ্ছা নেই।
আপন বলতে আমার কেউ নেই।
ট্রেনের সিটে জানালার পাশে একলা বসে আমি,
পাশে বসবে এমন একজন সঙ্গী নেই।
শুধু আছে একরাশ স্তব্ধতা,
আছে কাঁধের বোঝাতে গল্পগুলোর ছটফটানি।
এ বোঝা বইবো কতদিন?
আর না, পারছি না, এবার হেরে যাবো,
জানি হেরে যাওয়া মানুষকে
কেউ আপন বলে পরিচয় দেয় না।
তবুও হেরে যাবো,
ঠিক করেছি কারোর আপন হবো না,
চাইনা আপন কাউকে, তবু এ বোঝা বইবো না।
নেমে যাবো পরের স্টেশনে,
সকাল হওয়ার আগেই,
ছুঁড়ে ফেলবো সমস্ত ভার লোহার পাতের ওপর,
ফেলে যাবো কালো পাথরের ভিড়ে।
ট্রেনের চাকায় কাটা পড়বে আমার গল্পগুলো।
অচেনা লোকালয়ে, আমি হারিয়ে যাবো
অপরিচিত হয়ে।
