নামলো বৃষ্টি মুষলধারে অপরাহ্ন বেলা,
সঙ্গে নিয়ে ঝড়ের দাপট প্রলয় তান্ডব মেলা।
কালো মেঘে ছেয়েছে আকাশ ঝাপসা পথ ঘাট,
পথিকরা সব দিশেহারা হায় ছেলেরা ছাড়লো মাঠ।
দামিনীর যত ঝলকানি আর বজ্রপাত গুড়মুড়,
ছাউনি ওড়ে কুঁড়ে ঘরের গাছ পড়ে হুড়মুড়।
বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে গিয়ে লুটায় যত মাটিতে,
লন্ডভন্ড চারিধার শিল পড়ে প্রবল গতিতে।
অগ্নিদগ্ধ ধরা সুশীতল হলো নিমেষে,
কালবৈশাখী এসেছে ধরায় দৃপ্ত রুদ্র বেশে।
ধেনু লয়ে রাখাল বালক চলেছে ঊর্ধ্বশ্বাসে,
ঘনঘোর দুর্যোগে বেসামাল ধেনু ছুটছে ত্রাসে।
মাঝি খেয়া বেঁধে ঝড়ের মাঝেতে ছুটে চলে ঘর পানে।
ত্রস্ত কুলবধূ দীঘি হতে দ্রুত হাঁসগুলো ডেকে আনে।
উথাল পাথাল হাওয়ার গতি বিহঙ্গের নেই দেখা,
ঝাপসা ধূসর দিগন্ত জুড়ে আলো আঁধারি রেখা।
ফল ফুল কত ভূলুণ্ঠিত ঝড়ের রোষানলে,
আম কুড়াবার ধুম লেগে যায় আম্রবৃক্ষ তলে।
গলদ ঘর্মে শ্রান্ত চাষি বৃষ্টির জল পেয়ে,
ঝঞ্ঝা মাথায় কাজ করে চলে আনন্দিত হয়ে।
অসময়েতে সন্ধ্যা নামে কালবৈশাখী হয় শান্ত,
বৃষ্টি সিক্ত স্নিগ্ধ ধরায় আঁধার আদ্য প্রান্ত।
জনজীবন যেন স্বস্তি পেলো ক্ষতি হায় কুঁড়ে ঘরে,
ধরাতল পরে শীতল ধারায় তবু খুশি সবার অধরে।
