টেবিলভর্তি কাগজ।
পাশেই
একটি কলম।
আমি লিখতে চেয়েছিলাম—
“একজন মানুষ চাই।”
শব্দ দুটি
কাগজে নামার আগেই
নিবের ভেতর
কালি জমে পাথর হয়ে গেল।
মনে হল,
ভাষাও আজকাল
বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে না।
কারণ
সে জানে—
মানুষ এখন
কোনো দৃশ্যমান প্রাণী নয়;
সে একটি যাচাইকরণ-প্রক্রিয়া।
তারপর
ঘরের মধ্যে
একটি লম্বা সারি জন্ম নিল।
কারও মুখে কোনো ভাষা নেই।
শুধু
হাতে ধরা কাগজ।
আধার।
জন্মসনদ।
ভোটার পরিচয়।
রক্তের গ্রুপ।
একটি পুরোনো ফাইলের ভাঁজে
কয়েক প্রজন্মের
ধুলো-ধরা উপাখ্যান।
তারা কেউ
নিজেদের বহন করছিল না—
বহন করছিল
নিজেদের প্রমাণ।
ঠিক তখন
কোথাও কোনো মানুষকে না দেখে
একটি কণ্ঠস্বর শুনলাম।
সে যেন
সময়ের চেয়েও পুরোনো,
ক্ষমতার চেয়েও নির্লিপ্ত।
বলল—
মাটির স্বাক্ষর কোথায়?
চারদিকে
নীরবতা।
পদবি
মাটির ভাষা জানে না।
রক্ত
সীমান্ত পড়তে শেখেনি।
হাড়ের ভেতর
কোনো ভূগোল জন্মায় না।
ত্বকের নিচে
দেশের মানচিত্র থাকে না।
তবু
একটি অদৃশ্য দপ্তর
অবিরাম খুঁজে চলে
ভূমিজতার সিলমোহর।
সেই দপ্তরে
মানুষের আগে
নথি ঢোকে।
নথির আগে
সন্দেহ।
সন্দেহের পরে
রায়।
মানুষ—
সবচেয়ে শেষে।
কখনও কখনও
তারও পরে।
আজকাল
কেউ জন্মায় না।
কেউ
স্বীকৃত হয়।
আর যাদের
স্বীকৃতি মেলে না,
তারা
মাটির উপরই হাঁটে,
আকাশের নিচেই শ্বাস নেয়,
নদীর জলেই মুখ ধোয়—
তবু
তাদের পায়ের নিচে
মাটি নয়,
একটি দীর্ঘ
প্রশ্নচিহ্ন।
সম্ভবত
সভ্যতার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার
চাকা নয়,
আগুন নয়,
রাষ্ট্রও নয়—
মানুষকে
নিজের কাছেই
অপরিচিত করে তোলার শিল্প।
