বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে
“বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারই দিন-পঞ্জিকা লিখে”
সুকান্তের সময় থেকে আজকের ভারত—বিদ্রোহ, বিবেক ও কবিকে অস্বীকার করার আত্মম্ভরিতা
কোনও কবিকে অপছন্দ করা যায়। তাঁর কবিতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যায়। সাহিত্য বেঁচেই থাকে মতভেদ, বিতর্ক ও পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যখন কেউ ঘোষণা করেন—সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা “অতি নিম্নমানের”, “পাতে দেওয়া যায় না”, এমনকি তিনি “কবিই নন”—তখন সেটি আর নিছক ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ থাকে না। তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—
এটি কি সত্যিই সুকান্তের কবিতার বিচার, নাকি বিচারকের নিজের সাহিত্যবোধের প্রদর্শন?
কারণ ব্যক্তিগত রুচি দিয়ে কোনও কবিকে পছন্দ বা অপছন্দ করা যায়; কিন্তু বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস থেকে একজন কবিকে মুছে দেওয়ার ক্ষমতা ব্যক্তিগত ঘোষণার নেই।
সাহিত্যের শেষ বিচারক ব্যক্তি নন— সময়।
আর সময়ের আদালতে সুকান্ত ভট্টাচার্য এখনও বহাল।
দুটি পংক্তির ভিতরে একটি যুগ
সুকান্তের ‘অনুভব’ কবিতার উচ্চারণ—
“বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারই দিন-পঞ্জিকা লিখে।”
এই দুটি পংক্তিকে কেবল রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রকাশ বলে পড়লে কবিতাটির গভীরতা ধরা পড়বে না।
এখানে কবি নিজেকে বিদ্রোহের বাইরে রাখছেন না। তিনি দর্শক নন। তিনি সময়ের সাক্ষী। তিনি মানুষের প্রতিবাদ, শ্রমিকের ধর্মঘট, শোষিতের ক্ষোভ, ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ—সবকিছুকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরতে চাইছেন।
“দিন-পঞ্জিকা লিখে”— এই শব্দবন্ধটিই অসাধারণ।
কবি যেন বলছেন—ক্ষমতাবানরা তাঁদের ইতিহাস লিখবেন, কিন্তু আমি লিখব সেই মানুষের ইতিহাস, যার ঘাম, ক্ষুধা ও রক্তের উপর দাঁড়িয়ে সভ্যতা তৈরি হয়।
এ কারণেই এই পংক্তি শুধু কবিতা নয়; একটি সময়ের নৈতিক দলিল।
১৯৪৬—কোন বাস্তবতা থেকে উঠে এসেছিল এই কবিতা?
‘অনুভব’- এর রচনাকাল ১৯৪৬। এটি ছিল ভারতীয় ইতিহাসের এক অগ্নিগর্ভ সময়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত তখনও তাজা। ১৯৪৩-এর বাংলার দুর্ভিক্ষ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। খাদ্যাভাব, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক-কৃষকের অসন্তোষ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন—সব মিলিয়ে বাংলার সমাজ ছিল গভীর অস্থিরতায় আক্রান্ত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং স্বাধীনতার আসন্ন রাজনৈতিক রূপান্তর।
এই সময়ের মধ্যেই সুকান্ত লিখছেন।
তাই তাঁর ‘বিদ্রোহ’ কল্পনার বিদ্রোহ নয়।
এটি রাস্তায় দেখা মানুষের বিদ্রোহ।
এটি ক্ষুধার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
এটি শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
এটি মানুষের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা।
সুকান্তের কবিতা বুঝতে হলে তাই তাঁর সময়টিকেও বুঝতে হবে। ২০২৬-এর নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ১৯৪৬-এর উত্তপ্ত বাস্তবতাকে না বুঝে সুকান্তকে বিচার করা মানে ইতিহাসকে অর্ধেক পড়ে সাহিত্যকে পুরো বিচার করার চেষ্টা।
সুকান্তের কবিতা এত সরাসরি কেন?
এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
সুকান্তের ভাষা অনেক সময় প্রত্যক্ষ, কঠিন, রাজনৈতিক এবং উত্তপ্ত। তাঁর কবিতায় স্লোগানের কাছাকাছি উচ্চারণও আছে। কিন্তু সেটিই তাঁর কাব্যিক স্বাতন্ত্র্যের একটি অংশ।
রবীন্দ্রনাথের কবিতা যে নন্দনজগৎ তৈরি করেছে, জীবনানন্দ যে স্বপ্নময় আধুনিকতার ভাষা নির্মাণ করেছেন, নজরুল যে বিদ্রোহের বজ্রধ্বনি এনেছেন—সুকান্ত তাঁদের পুনরাবৃত্তি করতে আসেননি।
তিনি বাংলা কবিতার কেন্দ্রে নিয়ে এলেন ক্ষুধার্ত মানুষকে।
তাঁর কাছে কবিতা শুধু ফুল, চাঁদ, প্রেম ও সৌন্দর্যের আশ্রয় নয়। কবিতা হতে পারে ক্ষুধার সাক্ষ্য, শ্রমের ভাষা, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
তাই তাঁর কবিতার সৌন্দর্য অনেক সময় অলংকারে নয়— তার নৈতিক তীব্রতায়।
যে যুগে মানুষের পেট খালি, সেই যুগের কবি যদি শুধু চাঁদের আলো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে তাঁর বিবেকই হয়তো তাঁকে প্রশ্ন করবে—ক্ষুধার্ত মানুষের মুখটি কোথায়?
সুকান্ত সেই মুখটি এড়িয়ে যাননি।
‘সুকান্ত কবিই নন’—এই মন্তব্যের সাহিত্যিক মূল্য কতটুকু?
সুকান্তের কবিতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা সম্ভব এবং প্রয়োজনও আছে।
বলা যায়—তাঁর সব কবিতা সমান শক্তিশালী নয়।
বলা যায়—কিছু কবিতায় রাজনৈতিক বক্তব্য কবিতার উপর ভারী হয়ে উঠেছে।
বলা যায়—কিছু জায়গায় তাঁর প্রত্যক্ষতা নন্দনতাত্ত্বিক সূক্ষ্মতাকে কমিয়েছে।
এসবই সাহিত্যিক সমালোচনার বিষয়।
কিন্তু “তিনি কবিই নন”—এই মন্তব্যের মধ্যে সমালোচনা কোথায়?
একজন কবির দুর্বল কবিতা দেখিয়ে বলা যায় তাঁর সৃষ্টির একটি অংশ দুর্বল। কিন্তু একটি কবিতার দুর্বলতা দিয়ে সমগ্র কবিসত্তাকে বাতিল করা যায় না।
সাহিত্য সমালোচনা যুক্তি দাবি করে।
অবজ্ঞা যুক্তির বিকল্প নয়।
আর “পাতে দেওয়া যায় না”— এ ধরনের মন্তব্য সাহিত্যিক যুক্তি নয়; এটি কেবল রুচিগত অস্বীকৃতি।
আপনার পছন্দ হয়নি—বলুন।
আপনি তাঁর কবিতাকে দুর্বল মনে করেন—যুক্তি দিন।
কিন্তু একজন প্রতিষ্ঠিত কবিকে “কবিই নন” বলে ঘোষণা করার আগে অন্তত প্রশ্ন করুন—
আপনার নিজের সাহিত্যিক মাপকাঠিটি কতটা দৃঢ়?
কারণ সাহিত্য কোনও ব্যক্তিগত জমিদারি নয়।
সুকান্তের রাজনৈতিক পরিচয় কি তাঁর কবিতাকে বাতিল করে?
সুকান্ত কমিউনিস্ট ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস তাঁর সাহিত্যিক চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এটি অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে মতভেদ এবং সাহিত্যিক অযোগ্যতা—এই দুইকে এক করে ফেলা বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা।
কোনও কবির মতাদর্শ সমালোচনা করা যায়। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের সীমাবদ্ধতা দেখানো যায়। কিন্তু সেই কারণে তাঁর সমস্ত সাহিত্যকে বাতিল করা যায় না।
সুকান্তের কবিতায় যে ক্ষুধার্ত শিশু আছে, তার ক্ষুধা কোনও দলের সদস্যপদ চায় না।
শ্রমিকের ঘামের কোনও দলীয় পরিচয় নেই।
অপমানিত মানুষের মর্যাদার কোনও রাজনৈতিক পতাকা নেই।
মানুষের যন্ত্রণা মতাদর্শের সীমানা মানে না।
এই কারণেই সুকান্ত তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও বড়।
তিনি বাংলা ভাষার কবি।
আজকের ভারত কি সুকান্তকে আর প্রয়োজন করে না?
বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত—
আজকের ভারত কি সুকান্তকে আরও বেশি প্রয়োজন করে না?
স্বাধীনতার আট দশক পরেও আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে উন্নয়ন ও বৈষম্য পাশাপাশি চলে; প্রযুক্তির বিস্ফোরণের সঙ্গে বেকারত্বের উদ্বেগও থাকে; রাজনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে সামাজিক মেরুকরণও দেখা যায়।
আজও কর্মসংস্থান একটি বড় প্রশ্ন।
আজও কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আজও অর্থনৈতিক বৈষম্য আছে।
আজও ধর্ম, ভাষা, জাতি ও পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি আছে।
আজও রাজনৈতিক আনুগত্য অনেক সময় যুক্তির জায়গা দখল করে নেয়।
আজও ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখার প্রবণতা দেখা যায়।
তাহলে সুকান্তের প্রশ্ন কি শেষ হয়ে গেছে?
না।
বরং তাঁর কবিতার প্রয়োজন এখানেই।
তিনি আমাদের শেখান— ক্ষমতা যারই হোক, প্রশ্ন করার অধিকার মানুষের।
বিদ্রোহ মানে শুধু অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়
সুকান্তের ‘বিদ্রোহ’কে শুধু দলীয় স্লোগানে নামিয়ে আনলে তাঁকে দ্বিতীয়বার ছোট করা হবে।
বিদ্রোহ মানে নিজের পক্ষের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও দাঁড়ানো।
নিজের প্রিয় নেতার ভুল স্বীকার করা।
নিজের সম্প্রদায়ের অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া।
নিজের মতাদর্শের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা।
ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন রাখা।
জনপ্রিয়তার বিরুদ্ধে সত্য বলা।
সংখ্যাগরিষ্ঠের ভয়ে বিবেককে বন্ধক না রাখা।
এই অর্থে সুকান্তের বিদ্রোহ শুধু রাষ্ট্র বা শাসকের বিরুদ্ধে নয়; নিজের ভিতরের ভীরুতার বিরুদ্ধেও।
এটাই তাঁর সবচেয়ে আধুনিক শিক্ষা।
একজন বাঙালি কবিকে তাঁর নিজের সাংস্কৃতিক পরিসরেই অপমান?
সুকান্ত বাঙালি সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার। তাঁর কবিতায় বাংলার মাটি, মানুষ, শ্রম, ক্ষুধা, সংগ্রাম ও স্বপ্ন প্রবলভাবে উপস্থিত।
তাই তাঁর নিজের সাংস্কৃতিক পরিসরের কোনও ব্যক্তি যদি তাঁকে তুচ্ছ করেন, সেটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।
তবে এখানেও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা জরুরি।
একজন ব্যক্তির মন্তব্য দিয়ে গোটা সম্প্রদায়কে বিচার করা যায় না।
কোনও ব্যক্তি সুকান্তকে অপমান করেছেন বলে তাঁর সঙ্গে যুক্ত সমগ্র সম্প্রদায়কে দায়ী করা অন্যায় হবে।
কিন্তু সেই ব্যক্তির বক্তব্যের সমালোচনা করা অবশ্যই যায়।
এবং করা উচিত।
কারণ নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একজন বড় কবিকে অস্বীকার করার আগে অন্তত তাঁর সাহিত্যিক অবস্থান সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
সুকান্তের সবচেয়ে বড় উত্তর—তাঁর দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি
সুকান্ত মাত্র বিশ বছরের জীবন পেয়েছিলেন।
১৯৪৭ সালের ১৩ মে, স্বাধীন ভারতের জন্মের মাত্র কয়েক মাস আগে, যক্ষ্মায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি স্বাধীনতার পূর্ণ সূর্যোদয় দেখেননি।
কিন্তু তাঁর কবিতা স্বাধীনতার পরও বেঁচে থেকেছে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর কবিতা পড়েছে, আবৃত্তি করেছে, আলোচনা করেছে, নতুন করে আবিষ্কার করেছে।
এটাই কবির সবচেয়ে বড় উত্তর।
কবি চলে যান; কবিতা থেকে যায়।
কেউ তাঁকে কবি বলুক বা না বলুক—বাংলা ভাষা তাঁকে তার কবিতার ভিতর জায়গা দিয়েছে।
কেউ তাঁর কবিতাকে নিম্নমানের বলুক—সময় তাঁর রচনাকে বাতিল করেনি।
কারণ সাহিত্যিক ইতিহাস ব্যক্তিগত ঘোষণাপত্রে লেখা হয় না।
শেষ কথা: দিন-পঞ্জিকার পাতা এখনও উল্টে যাচ্ছে
সুকান্ত তাঁর সময়ের দিন-পঞ্জিকা লিখেছিলেন।
কিন্তু তাঁর সেই দিন-পঞ্জিকার পাতা এখনও বন্ধ হয়নি।
সময়ের পোশাক বদলেছে।
রাজনীতির ভাষা বদলেছে।
প্রযুক্তি বদলেছে।
সমাজের কাঠামো বদলেছে।
কিন্তু মানুষের প্রশ্ন শেষ হয়নি।
ক্ষুধা শেষ হয়নি।
বৈষম্য শেষ হয়নি।
অন্যায় শেষ হয়নি।
মানুষের মর্যাদার লড়াই শেষ হয়নি।
তাই সুকান্তও শেষ হয়ে যাননি।
তাঁর কবিতার পুনর্মূল্যায়ন হোক। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসের সমালোচনা হোক। তাঁর কাব্যের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হোক। কিন্তু সবকিছুই হোক যুক্তি, পাঠ ও সাহিত্যবোধের ভিত্তিতে।
কারণ—
অবজ্ঞা সমালোচনা নয়।
আত্মম্ভরিতা প্রজ্ঞা নয়।
আর ব্যক্তিগত রুচি সাহিত্য-ইতিহাসের শেষ রায় নয়।
কেউ বলতে পারেন —“সুকান্ত কবি নন।”
কিন্তু বাংলা ভাষার ইতিহাস তাঁর সেই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেনি।
সময়ও করেনি।
পাঠকও করেনি।
বরং প্রায় আট দশক পরেও সুকান্ত ফিরে আসেন—নতুন প্রজন্মের কাছে, নতুন সংকটের কাছে, নতুন প্রশ্নের কাছে।
তাই আজ প্রশ্নটি সুকান্তের কাছে নয়।
প্রশ্নটি আমাদের কাছে—
আমরা কি সুকান্তের কবিতা পড়তে প্রস্তুত, নাকি তাঁর প্রশ্নগুলোকে ভয় পাই?
কারণ সুকান্তকে অস্বীকার করা সহজ।
সুকান্তের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন।
আর সেই কারণেই—
“বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারই দিন-পঞ্জিকা লিখে।”
দিন-পঞ্জিকার পাতা এখনও উল্টে যাচ্ছে।
শেষ পাতা এখনও লেখা হয়নি।
