গহীন রাতের নিঃস্তব্ধতায় হৃদয় ভাঙে, গড়ে,
শন শন বাতাসের মৃদু আওয়াজ ঝাউবনে।
মর্মর ধ্বনিতে শুকনো পাতারা খসে পড়ে,
একাদশীর একফালি চাঁদ শুধু জেগে রয় আকাশময়,
কালকেতু, শুকতারা সাথ দেয়।
কাঁপুনি ধরিয়ে শীত
ওই বুঝি ফিরে এল কুয়াশা মাখা হিমেল হাওয়ায় ।
উষ্ণ আমেজের বড়ই অভাব, খোঁজে আনাচে কানাচে।
গবাক্ষের বুকে আছড়ে পড়ে খোঁজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ,
নিদ্রা দেবীর বরপুষ্ট লেপের তলায় পরম সুখনিদ্রায়, সাড়া মেলেনা।
শুধু পথের ধারে ঘেঁয়ো কুকুরটা, ডুকরে ডুকরে কাঁদে।
কুঁকড়ে থাকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পাগল সঙ্গিনী হৃদয়ের ওমে তাকে আদর করে,
জোনাকিরা আলোর মালায় শুভেচ্ছা জানায়,
শিকার সন্ধানে রাত পাখি ডানা ঝাপটায়।
দূরের হেডলাইট উলঙ্গ মাতালকে পিষে দিয়ে যায় কোন সাক্ষী না রেখে।
আঁধারের বুক চিরে আকাশে হঠাৎ বিজলী চমক,
ক্ষুব্ধ প্রকৃতির নীরব ধমক।
শেষ রাতের ট্রেনটা হুঁইসেল বাজিয়ে চলে গেল,
ডকে বোধহয় পরবাসী জাহাজ এসে নোঙ্গর করল।
রাত এবার ফিকে হল,
ঘুঘুর ডাকে নিঃস্তব্ধতার প্রথম চুমুক পেয়ালায়,
কুয়াশার চাদর সরিয়ে সবিতা উঁকি দেয় উষ্ণতায়।
