ভোট ভোট ভোট
নব্বই দশকের ঘটনা ভোট ভোট ভোট চারিদিকে হইচই। মস্ত মস্ত চিঠি মানে এ্যাপলিকেশন ছুটির দরখাস্ত মেট্রন টেবিলে জমা। তাহলে পেশেন্টের কে দেখবে। ডাকা হলো ওয়ার্ড অনুযায়ী স্টাফনার্সদের তুমি সকালে চলে যাবে ভোট দিতে। তাহলে বিকেলে ডিউটিতে আসবে। আর এইযে তুমি ডিউটি শেষে এক্কেবারে ভোট দিতে যাবে। ভয়ে ভয়ে স্টাফ বলে আমার বাড়ি পৌছতে দেরি হয় ট্রেন তারপরে অটো নাহলে রিক্সা। হুম তাহলে সকালে তোমার ডিউটি তো মঞ্জু। হ্যাঁ মেডাম। তোমার বাড়ি শ্যামবাজার। ব্যস দুজনে ডিউটি পাল্টে নাও।
এভাবেই ভোট উৎসব নামক প্রস্তুতি চলছে। অনেক দিনের আগের কথা। এবার ভোটের দিন স্টুডেন্ট আমি ডিউটি চলছে। 2টোর শেষে হোস্টেলে ফিরছি। পথে একগাদা ডক্টর বলে চল ভোট দিবি। আমার ভোটে নাম ওঠে নি। দূর বাবা আমি কেন যাবো। আরে তোর নাম ওঠে নিতো কি হয়েছে। আমরা কাগজ দেবো গটগট করে যাবি ভোট দিয়েই চলে আসবি। না আমি যাব না। আমি হোস্টেলে যাব। আরে ভয় পাচ্ছিস কেন আমরা থাকব তো। শুধু অমুকের নামের পাশে ছাঁপ দিবি। তখন এইসব ইলেকট্রনিক্স মেশিন ছিল না।
হাতে পায়ে ধরে কেঁদে কেটে দৌড়ে হোস্টেল গেটে। আসলে পুরোটাই ছিল মজা। ভয় পাওয়ানোর খেলা।
তার পরের কতক দিন রসিয়ে রসিয়ে এটা নিয়ে ওয়ার্ডে হাসির পরিবেশ।
এখন ভাবলে খুব হাসি পায়। তখন চিৎকার করে বলেছি না আমাকে পুলিশ নিয়ে যাবে। যাবো না। ও মেট্রন বাঁচাও। হা হা হা।
আসলে তখন ধাপ্পা ভোটের কথা এত শুনেছি আর তার ফলাফল বেশ সাংঘাতিক এটা কানের কাছে গল্প চলেছে আগে থেকে। আর আমি যে আসলে ভীতু সেটা সকলেই জানত। তাই একটু পিছনে লাগা।
নার্সিং ড্রেস পড়ে কি কেউ যায় এই কথা মনে নেই। আসছি ড্রেস পাল্টে বলে সহজেই ফাঁকি দেওয়া যেত।
তা না হাউমাউ কান্না পথের মাঝে।
এখন খুব হাসি পায়। তোমরা যেন হেসো না। ছোটো ছিলাম তো। বুদ্ধি পাকা হয় নি। এটা কিন্তু সত্যি ঘটনা যিনি মাস্টার মাইন্ড তিনি এখন সার্জেন তবে সিনিয়র সিটিজেন।
