Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » নখের আঁচড় || A K Sarker Shaon

নখের আঁচড় || A K Sarker Shaon

জগলু ও কানিজের যুগল সংসার তিন মস পেরিয়েছে। সেটেল্ড মেরেজ। মোটামুটি চলছ।

একদিন রাতে নাকের বাঁশীতে বরফের মতো ঠান্ডা ছোঁয়া লাগতেই জগলুর ঘুম ভেঙে গেল।

চারপাশ নিঝুম। জানালার বাইরে অন্ধকার! টেবিল ঘড়িটি তুলে দেখল, রাত ৩টা ২০ মিনিট। ঘুমজড়ানো হাতে নাকের বাঁশীতে আঙুল ছোঁয়াতেই চটচটে, ভেজা কিছু অনুভব করল। নীল ডিম লাইটের আলোয় বোঝা যাচ্ছে না। দূরে রাখা মোবাইলটা এনে টর্চ জ্বালিয়ে ধরতেই বুকটা ধক করে উঠল।

আঙুলের ডগায় রক্ত!

জগলু স্থির হয়ে বসে রইল।

পাশেই কানিজ অঘোরে ঘুমাচ্ছে। নিয়মিত ওঠানামা করছে তার শরীর। মুখে প্রশান্তির ছাপ।

জগলু ধীরে ধীরে কানিজের দিকে তাকাল।

তারপর নিজের নাকের দিকে।

আবার কানিজের দিকে।

মনে হলো, ঘরের কোথাও যেন কেউ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে।

কিছুক্ষণ পর নিজেকেই বোঝাল, হয়তো ঘুমের মধ্যে কোথাও লেগে গেছে। সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে একসময় ক্লান্ত শরীরটা আবার বিছানায় ঢলে পড়ল।

সকালে বেসিনের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ ধোয়ার সময় পানি লাগতেই নাকটা জ্বলে উঠল। রাতের কথা মনে পড়লো। ভালো করে তাকিয়ে দেখল, নাকের বাঁশীতে সরু কিন্তু স্পষ্ট আঁচড়ের দাগ। যেন ধারালো কোনো কিছুর ফলায় কেটে গেছে।

নাস্তা বানাতে ব্যস্ত কানিজকে ডাকল সে।

-কানিজ!

-কী?

-এদিকে এসো তো।

কানিজ কাছে এলে নাকটা দেখিয়ে জগলু বলল,

-দেখো তো, রাতে কীভাবে যেন কেটে গেছে।

কানিজ মাত্র এক সেকেন্ড তাকাল। তারপর চলে গিয়ে ডিমের অমলেটে লবণ ছিটাতে ছিটাতে নির্বিকার গলায় বলল,

কিচ্ছু হয়নি!

জগলু জেদ করে জানালার কাছে গিয়ে আলোয় নাকের বাঁশীটা কানিজের চোখের সামনে তুলে ধরল।

কানিজ এবার ভালো করে দেখে বলল,

-তাই তো! মশা-টশা কামড়েছে বোধহয়। কিংবা ঘুমের মধ্যে নিজের নখই লেগেছে।

কথাটা স্বাভাবিকভাবেই উড়িয়ে দিল কানিজ।

কিন্তু জগলুর মন থেকে আঙুলে লেগে থাকা রক্তের দৃশ্যটা সরল না। সে নিজের নখ পরীক্ষা করল। তারপর কানিজের হাতের ও পায়ের নখও খুঁটিয়ে দেখল।

কানিজ বিরক্ত হয়ে বলল,

-কী দেখছ?

-কিছু না।

-আমার নখ দেখছ কেন?

-এমনি।

কানিজ আর কথা বাড়াল না।

কিন্তু জগলুর মনে তখন অদ্ভুত এক অস্বস্তি জন্ম নিয়েছে। অফিসে গিয়েও স্বস্তি পেল না সে। লাঞ্চের টেবিলে বন্ধুদের ঘটনাটা বলতেই হাসির রোল উঠল।

কবীর চায়ে চুমুক দিয়ে বলল,

-আরে বোকা! মশা না; এটা নির্ঘাত ভাবীর কাজ। আজ একটু ট্রেলার দেখিয়েছে, আগামীতে করে বসবে। বিছানায় সাবধানে থাকিস, দোস্ত!

চারদিকে আবার হাসির শব্দ।

জগলুও কৃত্রিমভাবে হাসল।

কিন্তু কবীরের কথাটা তার মাথায় এমনভাবে গেঁথে গেল, যেন কেউ মনের ভেতর একটা বিষাক্ত ভয়ের বীজ পুঁতে দিয়েছে।

বিকেল থেকেই কানিজকে অন্যরকম লাগতে লাগল। কানিজ যখন বঁটি দিয়ে তরকারি কাটছিল, জগলুর মনে হলো, ধারালো লোহার পাতটা যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

কানিজ যখন ছুরি দিয়ে ফল কাটছিল, জগলু অকারণে চেয়ারটা একটু দূরে সরিয়ে নিল।

কানিজ অবাক হয়ে বলল,

-কী হলো? দূরে যাচ্ছ কেন?

-এমনি।

-এমনি আবার কী?

জগলু কোনো উত্তর দিল না।

রাতে হঠাৎ বলল,

-আমি একটু মায়ের কাছে যাব।

কানিজ অবাক হয়ে তাকাল।

-এখন?

-হ্যাঁ। মায়ের শরীরটা ভালো নয়।

-মায়ের শরীর খারাপ? কখন শুনলে?

জগলু একটু থেমে বলল,

-আমার মনে হলো।

কানিজ ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

-মনে হলো মানে?

সে তৎক্ষনাৎ শাশুড়িকে ফোন দিল।

-মা, আপনার শরীর কেমন?

ওপাশ থেকে স্বাভাবিক কণ্ঠ,

-ভালো আছি বৌমা। কেন?

কানিজ জগলুর দিকে তাকিয়ে বলল,

-জগলু বলছে, আপনার শরীর খারাপ।

মা হেসে বললেন,

-আমার শরীর ভালোই।

কানিজ ফোন রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে জগলুর দিকে তাকিয়ে রইল।

জগলু চোখ নামিয়ে বলল,

-হয়তো ভুল ভেবেছিলাম।

কিন্তু সেদিন থেকে জগলুর ভয় যেন আরও বেড়ে গেল।

রাতে খাবার টেবিলে কানিজ ডাল এগিয়ে দিলে জগলু বলল,

তুমি আগে খাও।

-কেন?

-এমনি।

কানিজ নিজের প্লেটে ডাল নিল।

জগলু তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

কানিজ হেসে বলল,

-আমাকে পরীক্ষা করছ?

জগলু চমকে উঠল।

-কী বললে?

কানিজ বললো

-কিছু না।

পরপর কয়েক দিন অফিস থেকে ফেরার পর কানিজ চা এগিয়ে দিলে জগলু কাপটা হাতে নিয়েও মুখে তুলল না।

কানিজ বলল,

-চা খাবে না?

-পরে খাব।

-ঠান্ডা হচ্ছে।

-হোক।

শেষের দিন কানিজ লক্ষ্য করলো জগলু চা পান না করেই ফেলে দিল। ফেলে দেয়াটা উল্লেখ না করে কানিজ বিরক্ত হয়ে বলল,

-তোমার হয়েছে কী?

জগলু নিচু গলায় বলল,

-ডাক্তার বারণ করেছে।

-কোন ডাক্তার?

-ডা. রহমান

কেন এমনটা বলবে!

-ডাক্তার নিশ্চয়ই ভেবে বলেছেন। আরো অনেক কথা বলেছেন।

কানিজ এবার হেসে ফেলল।

-কী হয়েছে তোমার?

জগলু গম্ভীর মুখে বলল,

-কয়েক দিন একই বিছানায় থাকতে ডাক্তার আমাকে বারণ করেছেন।

কানিজের হাসি থেমে গেল।

-কোন ডাক্তার তোমাকে এসব বলেছে?

-ডাক্তার রহমান

-প্রেসক্রিপশন দেখাও।

জগলু অপ্রস্তুত বলল

-এখন সঙ্গে নেই।

ডাক্তারকে ফোন দাও।

জগলু চুপ।

কানিজ দীর্ঘক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

-তুমি কি আমাকে ভয় পাচ্ছ?

আবারও জগলু চুপ।

সেদিন রাতে কানিজ বিছানার একটূু দূরে শুয়ে রইল। মাঝখানে যেন অদৃশ্য একটা দেয়াল।

পরদিন অফিসে গিয়ে কবীরকে সব বলতেই কবীর এবার হাসল না।

বলল,

-দোস্ত, ব্যাপারটা সিরিয়াস মনে হচ্ছে। তুই একজন মনোচিকিৎসকের সঙ্গে দেখা কর।

সেদিন সন্ধ্যায় কানিজ একটু সেজেগুজে ছিল। ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক।

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কানিজ যখন জগলুর দিকে তাকিয়ে হাসল, জগলুর চোখ স্থির হয়ে গেল তার ঠোঁটে। লাল লিপস্টিকটা মুহূর্তেই তার কাছে লিপস্টিক মনে হলো না। মনে হলো, রক্ত।

কয়েক দিন আগে টেলিভিশনে পুরোনো একটি ড্রাকুলা সিনেমার দৃশ্য দেখে কানিজ মজা করে বলেছিল,

-এই দেখো, ভ্যাম্পায়ার! লাল ঠোঁট আর ধারালো দাঁত; এগুলো দেখলেই মানুষ ভয় পায়!

সেই ড্রাকুলার ছবির দৃশ্যগুলো জগলুর মাথায় একের পর এক ভেসে উঠল। সাদা মুখ, রক্তলাল ঠোঁট, অস্বাভাবিক হাসি, শিকারকে তাড়া করে আসা এক ভয়ংকর ছায়া। কানিজের স্বাভাবিক মুখটাও জগলুর চোখে বদলে যেতে লাগল।

সে যেন আর কানিজ নয়; ড্রাকুলা!

জগলুর কল্পনায় কানিজের চোখ দু’টো অস্বাভাবিকভাবে বড় হল। লাল ঠোঁটের আঁড়াল থেকে যেন ধারালো দাঁত বেরিয়ে এল। সে ধীরে ধীরে জগলুর দিকে এগিয়ে আসছে।

জগলু পিছিয়ে যেতে যেতে কাঁপা গলায় বলল,

-না… না… তুমি কাছে এসো না!

কানিজ থমকে গেল।

-কী হয়েছে তোমার?

কিন্তু জগলুর চোখে তখন বাস্তব আর কল্পনার কোনো সীমারেখা নেই।

-না… আ…!

চিৎকার করে পিছিয়ে যেতে গিয়ে জগলু মেঝেতে পড়ে অজ্ঞান হল।

কানিজ ছুটে এসে তার মাথার নিচে হাত রেখে ডাকল।

-জগলু! জগলু!

দ্রুত প্রতিবেশীদের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হলো। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসক বললো একজন মনোচিকিৎসককে দেখাতে।

কানিজের ভাই মনোবিজ্ঞানী রোহান আহমেদ খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে এলো। সব শুনে বোন আর দুলাভাইকে নিয়ে সে সরাসরি তাদের বাড়িতে গেল।

রোহান আহমেদ ভাই হিসেবে যেমন সহানুভূতিশীল, তেমনি ঠাণ্ডা মাথায় পর্যবেক্ষক। সে দীর্ঘ সময় জগলুর কথা শুনল। কানিজের কথাও শুনল। প্রথম রাতের রক্তের ঘটনা, নাকের ক্ষত, কানিজকে নিয়ে তার ভয় এবং পরপর কয়েক দিনের অস্বাভাবিক আচরণের কথা।

সব শুনে রোহান শান্ত গলায় বলল,

-জগলু ভাই, আপনার ভয়টা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু ভয় আর বাস্তব ঘটনা; দু’টোকে আলাদা করতে হবে।

জগলু বলল,

-রোহান, আমি পাগল নই।

-আমি তা বলিনি।

-কিন্তু সবাই আমাকে অবিশ্বাস করছে।

রোহান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

-আপনি এখন যে ভয়টা পাচ্ছেন, তার বাস্তব ভিত্তি আছে। আপনার নাকে সত্যিই ক্ষত হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষত কীভাবে হয়েছে, সেটা না জেনে আপনার মন তার একটা কল্পিত ব্যাখ্যা তৈরি করেছে। তারপর আপনার সহকর্মী কবীরের কথাটা সেই ব্যাখ্যাকে উস্কে দিয়েছে। ওদিকে ড্রাকুলার দৃশ্যের সঙ্গে সেই ভয় মিশে আপনার কল্পনা আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে।

জগলু চুপ করে রইল।

রোহান বলল,

-আজ রাতে একটা কাজ করবেন। ঘুমানোর আগে বিছানার চাদর, বালিশ, খাটের চারপাশ এবং মেঝে ভালো করে দেখে নেবেন। সকালে আমাকে জানাবেন কী পেয়েছেন।

কানিজের দিকে তাকিয়ে সে একান্তে বলল,

আপা, আজ রাতে তুমি উনার কাছ থেকে একটু দূরে থাকবে। উনাকে স্বস্তিতে ঘুমাতে দাও।

কানিজ মাথা নাড়ল।

ওরা নিজেদের বাসায় চলে এলো।

রাতে কানিজ ইচ্ছা করেই জগলুর কাছ থেকে বেশ দূরে শুয়ে রইল। জগলুর চোখে ঘুম নেই। চোখ পটপট করে উপরের সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন লম্বা একটি লাশ!

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে গিয়ে আবার রাত ৩টা ২০ মিনিটে পৌঁছাল। জগলু নড়ল না।

ঘরের নীরবতা যেন আরও ঘন হয়ে উঠল।

কিছুক্ষণ পর জানালার ফাঁক দিয়ে আসা চাদরের কোণায় ঠান্ডা বাতাসের হালকা পরশ লাগতেই তার মনে হলো বরফশীতল কোনো কিছু আঙুল ছুঁয়ে গেল!

এবার নাকের বাঁশীতে নয়।

জগলুর বুকের ভেতর ধক করে উঠল।

সে মোবাইলের আলো জ্বালাল।

কিছুই নেই।

কানিজ ঘুমিয়ে আছে।

জগলু বিছানা থেকে নামল। পায়ের শীতলতা অনুভব করল। তারপর বালিশের পাশে তাকাতেই দেখতে পেল, মেঝেতে ছোট্ট একটা সাদা বস্তু পড়ে আছে।

হাত বাড়িয়ে তুলতে গিয়েও থেমে গেল।

সারারাত আর সেটাকে ছুঁল না সে।

ভোরে কানিজ জগলুকে নিয়ে আবার বাড়িতে গেল। রোহান তার ঘরেই ছিল।

রোহান তাদের কথা শুনে আর দেরি করল না। তাদের সঙ্গে সরাসরি জগলুর বাসায় এলো। শোয়ার ঘরে ঢুকলো।

খাটের চারপাশ পরীক্ষা করল। বালিশ দেখল। চাদর দেখল।

তারপর জগলুকে বলল,

-আপনি কোন জায়গায় বসেছিলেন বলেন।

জগলু বালিশের পাশের জায়গাটা দেখিয়ে দিল।

রোহান নিচু হয়ে মেঝে পরীক্ষা করতে লাগল।

হঠাৎ খাটের নিচে তাকিয়ে বলল,

আলোটা এদিকে ধরো আপা।

কানিজ মোবাইলের টর্চ ধরল।

রোহান খাটের নিচে হাত ঢুকিয়ে কিছু একটা বের করল। টেবিলের ওপর রাখল।

জগলু ড্রাকুলার নখ ভেবে জমে গেল।

-এটা একটা আর্টিফিসিয়াল নখ! খাটের পায়ার পাশে আটকে ছিল ।

বেশ ধারালো। মাঝখানে ভাঙা।

কথাগুলো রোহান ধীরে ধীরে বলল।

কানিজ নখটা নিয়ে পরীক্ষা করলো।

বিস্মিত হয়ে বলল,

-আরে! কয়েকদিন আগে নখটা হারিয়ে গিয়েছিল, খুঁজে পাচ্ছিলাম না!

রোহান নখটি কানিজের কাছ থেকে নিয়ে জগলুর নাকের বাঁশীর ক্ষতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখল।

আকৃতি ও প্রকৃতি প্রায় একই।

-এবার প্রথম রাতের ঘটনাটা বোঝা যাচ্ছে।

রোহান বলল,

-আপনার নাকে যে আঁচড়ের দাগ হয়েছে, এই নখের সঙ্গে তা মিলে যায়। কয়েকদিন আগে রাতে ঘুমানোর সময় আপার হাত আপনার মুখের কাছে আসলে কৃত্রিম নখটা আপনার নাকে লেগে আঁচড় লাগে। চাপের মুখে নখটা খুলে খাটের পায়ার পাশে আটকে গিয়েছিল।

জগলু ধীরে ধীরে কানিজের দিকে তাকাল।

রোহান বলল,

-আপনার সন্দেহের শুরুটা পুরোপুরি কল্পনা ছিল না; কারণ সত্যিই একটি ক্ষত হয়েছিল। তারপর বন্ধু কবিরের ঠাট্টা সেই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ড্রাকুলার কল্পনায় ভয়কে ভয়ঙ্কর করে তুলেছিল।

কবীরের নাম শুনে জগলু চোখ নামিয়ে ফেলল।

কানিজ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল।

তার চোখে অভিমান, কষ্ট আর অদ্ভুত এক মায়া।

রোহান উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

চলি দুলাভাই। তবে একটা কথা মনে রাখবেন; সন্দেহ যখন সত্যের জায়গা দখল করে নেয়, তখন সবচেয়ে আপন মানুষটাকেও শত্রু মনে হয়।

ঘরে কিছুক্ষণ নীরবতা।

জগলুর চোখ নেমে গেল টেবিলে রাখা নখটার দিকে।

এক টুকরো ভাঙা নখ।

ছোট্ট একটা বস্তু!

অথচ কয়েক দিনে সেটাই তার কাছে হয়ে উঠেছিল অদৃশ্য আতঙ্কের প্রতীক।

কানিজ ধীরে ধীরে বলল,

-নখটা তো আজ পাওয়া গেল। কিন্তু তোমার মনের যে সন্দেহটা এতদিন আমাকে কেটেছে, সেটার কী হবে?

জগলু কোনো উত্তর দিল না।

তার মাথা নিচু হয়ে গেল।

সে ধীরে ধীরে কানিজের কাছে এগিয়ে গেল।

-আমাকে ক্ষমা করো।

কানিজ নিশ্চুপ ।

জগলু বলল,

-তোমার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। অস্ত্রটা ছিল আমার নিজের ভয়। আর সেই ভয়কে ধার দিয়েছিল আমার সন্দেহ। উস্কে দিয়েছিল কলারোয়ার গোলাম কবীর।

কানিজ এবার মুখ তুলে তাকাল।

চোখে অভিমান স্পষ্ট।

-ওই কলারোয়ার ওই গোলাম কবীর যেন কোনোদিন আমার বাসায় না আসে!

জগলু কিছু বলল না।

শুধু টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ছোট্ট নখটার দিকে তাকিয়ে রইল।

নখটা ক্ষুদ্র।

কিন্তু তার ধার ছিল ভয়ংকর।

আর সন্দেহ?

সন্দেহের ধার তার চেয়েও বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *