নীল আকাশের বুকে আজ নাম না জানা সাদা মেঘের অলস খামখেয়ালি যাত্রা।
নদীর চরে বাতাসে দোলে শুভ্র কাশের বন, যেন মাটির বুকে চাদর বিছিয়েছে কেউ।
রোদের মিঠে উত্তাপে এখন আর সেই গ্রীষ্মের প্রখরতা নেই,
সেখানে জায়গা করে নিয়েছে এক স্নিগ্ধ, সোনালি আভা।
ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে যে শিউলির সুবাস ভেসে আসে,
তা মনে করিয়ে দেয় এক অতি পরিচিত, দূর অতীতের পুরোনো সুর।
উঠোনজুড়ে ঝরে পড়া শিশিরভেজা ছোট ছোট ফুলগুলো,
মাটির বুকে নিঃশব্দে এঁকে দিয়ে যায় আলো-ছায়ার এক মায়াবী রূপকথা।
কাজলা দিঘির জলে হালকা ঢেউ তোলে হিমেল বাতাসের আগমনী সংকেত।
ডালে ডালে ভোরের পাখির কলকাকলিতে থমকে দাঁড়ায় অলস সময়,
যেন চেনা পৃথিবীটা রাতারাতি বদলে হয়ে যায় শান্ত আর পবিত্র।
শরৎ মানেই তো এই—এক অকারণ ব্যাকুলতা আর হালকা আনন্দের ছোঁয়া,
যেখানে নেই কোনো ব্যস্ততার তাড়া, আছে শুধু শুভ্রতার আহ্বান।
মেঠোপথের বাঁকে কাশবনের সাদা ছায়া ফেলে হাওয়া বয়ে যায় দূরে,
আর সেই হাওয়ায় মিশে থাকে মাটির নিজস্ব, ভেজা এক আকুলতা।
গোধূলির আলোয় যখন শান্ত নদীটা ধীরে ধীরে সোনালি রূপ নেয়,
তখন মনে হয় জীবনটা দিনশেষে এই সামান্য প্রশান্তিরই এক নাম।
কোনো এক অদেখা তৃপ্তি এসে নিঃশব্দে ভর করে মনজুড়ে,
নদীর কলতানে ধুয়েমুছে যায় শহরের সব ক্লান্তি আর জমে থাকা কোলাহল।
শরৎ নয়তো শুধু প্রকৃতির নতুন রূপ, শরৎ হলো মন ভালো করার এক জাদুকরী ছোঁয়া,
যা দূর দিগন্তে তাকিয়ে নীরবে বলে যায়—নতুন করে ভালোবাসার আলো এখনো বাকি।
