মেয়েটা স্বপ্ন দেখেছিল, লেখাপড়া শিখে বড় হবে, অনেক বড়–
যেখানে থাকবেনা দারিদ্রের বিষাদ ছায়া;
পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে।
একমাত্র লক্ষ ছিল তার লেখাপড়া শিখে
দারিদ্র মোচনে উন্নত জীবন।
গাঁয়ের কোন মেয়ে কলেজের মুখ দেখেনি,
কিন্তু সদ্য পাশ করা তরুণীর অদম্য জেদে
হার মানলো পরিবার,
ভর্তি হল বহুদূরের এক মহাবিদ্যালয়ে।
রাত হলে নির্জন এলাকা পার করে দাদা নিয়ে আসে বাড়ি।
সদ্য কৈশোর সমাপ্তে তরুণীর চোখে ভাসে
ভালো এক চাকরি, বাবার চিকিৎসা,
সংসারের হাল ফেরানোর অলীকস্বপ্ন।
সেদিন টিপটিপ বৃষ্টিতে আসছিল ভাইবোন,
হঠাৎ ঘিরে ধরে চারজন–
হ্যাঁচকা টানে ছিটকে পড়ে তরুণী,
সভ্যতার অশ্লীল রতিক্রিয়ায়
মুহূর্তের অন্ধকার গ্রাস করে তার যৌবন।
হারায় সবুজ তারুণ্য,
ভবিষ্যতের স্বপ্ন চাপা পড়ে যায় উন্মত্ত উল্লাসে
অন্ধকারের গহীনে।
মেয়েটা স্বপ্ন দেখেছিল লেখাপড়া শিখে বড় হবে, অনেক বড় হবে।
তড়িঘড়ি গ্রামের লোক ছুটে আসে
সমস্ত গ্রাম ঝাঁপিয়ে পড়ে দাদার আহ্বানে,
কিন্তু হায়! সব চেষ্টা বৃথা–
সতীত্ব যন্ত্রনায় কাতর তরুণী
জীবনের যতিচিহ্ন এঁকে পাড়ি দেয় অমৃতলোকে।
ছিন্নভিন্ন বিভৎস শরীর শুধু পড়ে থাকে
অসমাপ্ত স্বপ্ন নিকেতনের এক কোণে।
মেয়েটা স্বপ্ন দেখেছিল,লেখাপড়া শিখে বড় হবে, অনেক বড় হবে।
