ছোট্ট একটা গল্প বলি শোন-
মেঘ বালিকা যেথায় হারিয়ে যায় সবুজের ভিড়ে
নীল আকাশ ঢাকা পড়ে লম্বা পাইনের আড়ালে,
আঁকাবাঁকা সরু পাহাড়ি রাস্তা
শিরা উপশিরার মত পাহাড়ের গা বেয়ে চলে যায় গভীরে
সেথায় আকাশের পানে চেয়ে দুঃখবতী মেয়ে চম্পা
সজল নয়নে বসে পাহাড়ি নদীর ধারে।
সেই যে ছেলেটা! গৌরকান্তি লম্বা,ঝাঁকড়া চুলে ফুটফুটে
বলে গেছিল ফিরে আসবে বলে-
রোজ সকালে মেয়ে, নাওয়া খাওয়া ভুলে
প্রেমাসিক্ত চূর্ণবিচূর্ণ হৃদয়টাকে টকটকে রাঙিয়ে বুকের ভেতর,আঁকড়ে ধরে
অধীর অপেক্ষায় বসে থাকে পথ চেয়ে,
উচ্ছ্বল বেগবতী পাহাড়ি ঝর্ণা মেশে সমতল নদী বুকে।
দিন যায় রাত যায়,পাহাড়ের কোলে আঁধার ঘনিয়ে আসে
চম্পা ঠাঁয় বসে থাকে তার প্রেমিকের আশে,
যদি একদিন সে ফিরে আসে তার কাছে।
জল ছবি আঁকা এক মুঠো সুখ সে কিনতে চেয়েছিল হেমাঙ্গের প্রত্যঙ্গে, বৃষ্টি ভেজা চতুর্দশী রাতে ,
ভাবেনি স্বপ্নভাঙ্গা কালো ভবিষ্যতের কথা।
বসন্তের রক্তিম গোধূলি আকাশ আজ মেঘাচ্ছন্ন,
যোজন ব্যাপী দূরত্বে সাথীহারা বিস্মৃত মুহূর্তে।
সুরভিত স্বর্ণালী চম্পা শুকিয়ে আজ কাঠ গোলাপের রঙে!
বেড়ে ওঠা ভ্রূণের মাঝে ভালোবাসার সুখের ঘ্রাণ বুকে নিয়ে সে বেঁচে আছে আগামীর পথ চেয়ে।
হায়রে- অবোধ সরলা দিশাহীন কন্যা
কবে জাগ্রত হবে তোদের চেতনা বোধ,কবে বন্ধ হবে অশ্রুজলের বন্যা ?
