Skip to content

Banglasahitya.net

বাঙালির গ্রন্থাগারে বাংলার সকল সাহিত্যপ্রেমীকে জানাই স্বাগত

"আসুন সবে মিলে আজ শুরু করি লেখা, যাতে আগামীর কাছে এক নতুন দাগ কেটে যাই আজকের বাংলা............."

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আমাদের মেইল করুন - [email protected] or, [email protected] অথবা সরাসরি আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » এক অপ্রেমিকের জন্য || Ek Opremiker Jonno by Taslima Nasrin

এক অপ্রেমিকের জন্য || Ek Opremiker Jonno by Taslima Nasrin

অডিও হিসাবে শুনুন

এই শহরেই তুমি বাস করবে, কাজে অকাজে দৌড়োবে এদিক ওদিক

কোথাও আড্ডা দেবে অবসরে, মদ খাবে, তুমুল হৈ চৈ করবে,

রাত ঘুমিয়ে যাবে, তুমি ঘুমোবে না।

ফাঁক পেলে কোনও কোনও সন্ধেয় এ বাড়ি ও বাড়ি

খেতে যাবে, খেলতে যাবে,

কে জানে হয়তো খুলতেই যাবে আলগোছে কারও শাড়ি

আমার আঙিনা পেরিয়েই কোনও বাড়িতেই হয়তো।

এ পাড়াতেই হয়তো দু’বেলা হাঁটাহাঁটি করবে,

হাতের নাগালেই থাকবে,

হয়তো কখনও জানিয়েও দেবে আমাকে, যে, কাছেই

আছো,

কুঁকড়ে যেতে থাকবো, কুচি কুচি করে নিজেকে কাটতে

থাকবো

দেখা না হওয়ার যন্ত্রনায়, তবু বলবো না, এসো।

বলবো না,

তোমাকে সুযোগ দেব না বলার যে তোমার সময় নেই,

বা ভীষণ ব্যস্ত তুমি ইদানিং

তোমার অপ্রেম থেকে নিজেকে বাঁচাবো আমি।

তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে না।

বছর পেরোবে, তোমার সঙ্গে দেখা হবে না আমার,

দেখা না হতে না হতে ভুলতে থাকবো তোমার

সঙ্গে দেখা হওয়াটা ঠিক কেমন ছিল

কী রঙের সার্ট পরতে তুমি, হাসলে তোমাকে ঠিক

কেমন দেখাতো,

কথা বলার সময় নখ খুঁটতে, চোখের দিকে নাকি অন্য

কোথাও তাকাতে,

পা নাড়তে, ঘন ঘন চেয়ার ছেড়ে উঠতে, জল খেতে

কিনা, ভুলতে থাকবো।

দেখা না হতে না হতে ভুলতে থাকবো তুমি ঠিক

দেখতে কেমন ছিলে,

তিলগুলো মুখের ঠিক কোথায় কোথায় ছিল, অথবা

আদৌ ছিল কিনা।

তোমার চুমু খাওয়াগুলো ঠিক কেমন, জড়িয়ে পেঁচিয়ে

চুলে বা বুকে মুখ গোঁজাগুলো

ঠিক কেমন, ভুলতে থাকবো।

অনেকগুলো বছর পেরিয়ে যাবে, তোমার সঙ্গে আমার

আর দেখা হবে না।

এক শহরেই, অথচ দেখা হবে না।

পথ ভুলেও কেউ কারও পথের দিকে হাঁটবো না,

আমাদের অসুখ বিসুখ হবে, দেখা হবে না।

কোনও রাস্তার মোড়ে কিংবা পেট্রোল পাম্পে

কিংবা মাছের দোকানে, বইমেলায়, রেস্তোরাঁয়,

কোথাও দেখা হবে না।

আরও অনেকগুলো বছর পর, ভেবে রেখেছি, যেদিন হুড়মুড়

করে

এক ঝাঁক আলো নিয়ে সন্ধে ঢুকতে থাকবে আমার

নির্জন ঘরে,

যেদিন বারান্দায় দাঁড়ালে আমার আঁচল উড়িয়ে

নিতে থাকবে বুনো বৈশাখি

এক আকাশ চাঁদের সঙ্গে কথা বলবো যে রাতে

সারারাত

তোমাকে মনে মনে বলবোই সেদিন, কী এমন হয় দেখা

না হলে,

দেখা না হলে মনে হতো বুঝি বেঁচে থাকা যায় না,

কে বলেছে যায় না, দেখ, দিব্যি যায়!

তোমার সঙ্গে দেখা হয়নি কয়েক হাজার বছর, তাই

বলে কি আর বেঁচে ছিলাম না?

দিব্যি ছিলাম!

ভেবেছি বলবো,

তুমি তো আসলে একটা কিছুই-না ধরনের কিছু,

আমার আকাঙ্খা দিয়ে এঁকেছিলাম তোমাকে,

আমার আকাঙ্খা দিয়ে তোমাকে প্রেমিক

করেছিলাম,

আমার আকাঙ্খা দিয়ে তোমাকে অপ্রেমিকও করেছি

তোমাকে না দেখে লক্ষ বছরও বেঁচে থাকতে পারি!

অপ্রেমিককে না ছুঁয়ে, অনন্তকাল।

এক ফোঁটা চোখের জল বর্ষার জলের মতো ঝরে ধুয়ে

দিতে পারে

এতকালের আঁকা সবগুলো ছবি, তোমার নাম ধাম

দ্রুত মুছে দিতে পারে চোখের জল।

তোমাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

আমাকে একা বলে ভেবো না কখনো, তোমার অপ্রেম

আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

-+=