আমাকে যে অনুতপ্ত হতে বলল, কার জন্যে অনুতপ্ত হবো আমি?
কার জন্য অনুশোচনার জ্বলন্ত অঙ্গারে আমি ছোঁয়াবো আমার ঠোঁট?
দিন দিন আমার অধঃপতন পাহাড় কেবলি উঁচু হচ্ছে,
এত দাহ এত পাপ!
আমার পায়ের নখ থেকে মাথার প্রতিটি চুলে এত অপরাধ!
হাঁটু ভেঙ্গে একদিন আমার বুকের মধ্যে এসে পড়বে
কুয়াশা অস্থির শিলা রক্তের আগুন।
হাত তুলে আর আমি কাউকে ডাকবো না কোনোদিন!
সেই দুঃসহ দিনের কথা ভেবে অনুতপ্ত হবো আমি?
কিন্তু কেন, কার জন্যে অনুশোচনার জ্বলন্ত অঙ্গারে আমি
ছোঁয়াবো আমার ঠোঁট?
অনুতপ্ত হবো আমি বিশেষ নারীর জন্যে?
সেই আমার প্রত্যাখাত প্রথম পুষ্পের জন্যে ফের অনুতাপ?
কিশোর বয়সে একদিন আমার শরীর জুড়ে
গোলমরিচের ঝা ঝা গুড়োর মতোন তীক্ষ্ণ জ্বর নেমেছিল,
মনে আছে সেই জ্বরের রাত্রিতে জেগে জেগে জানিনা কখন
আমি মায়ের পাশেই…?
হঠাৎ নিদ্রা ভেঙ্গে যেতে দেখি মধুর চাকের মতো অন্ধকার!
মনে আছে ভল্লুকের মতো বাবা নুয়ে এসে সে আঁধারে কার
টেনে টেনে ছিঁড়েছিল জটিল যৌবন?
সে রাতে আমার ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছিল,
মনে আছে অন্তলীন আমার চীৎকার?
শুকনো পাতার মতো আমার চীৎকার থেকে ঝরে পড়া মা’র সেই হাত,
সেই রুগ্ন বিষণ্ণ আঙ্গুল-মার মানসিক অনিন্দ্র দহন!
তারও শেষ বিষণ প্লাবন যদি সময়ের তোড়ে গেল
তবে আর কার জন্যে অনুতপ্ত হবো আমি?
কার কাছে বয়ে নিয়ে যাবো এই কুয়াশা অস্তির শিলা রক্তের আগুন?