বর্তমান সমাজ
এক মুঠো ভাতের খোঁজে বিনি সেদিন ঘুমন্ত কোলের শিশুকন্যাকে ঝুপড়িতে রেখেই বেরিয়েছিল l বিনির অবর্তমানে পথচলতি অনেকেই হয়তো কান্না আওয়াজ পেয়েছিলো কিন্তু ব্যস্ততার চাপে কৌতূহল দেখিয়ে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে যায় নি l কিন্তু যদি উলঙ্গ কোনো প্রাপ্ত বয়সী মেয়ে থাকতো তাহলে যতই ব্যস্ততা থাক না কেনো স্মার্ট ফোনে ঠিক ভিডিও বানানো হয়ে যেতো l এটাই আমাদের বর্তমান #শিক্ষিত সমাজ l
ওদিকে বিনি সামান্য সময়ে ভিক্ষায় প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে একটা বিস্কুটের প্যাকেট আর দুধ জোগাড় করে ফিরে এলো মেয়ের কাছে l কোনো আওয়াজ নেই… এখনো ঘুমাচ্ছে মেয়ে এই ভেবে বিনি ঝুপড়ি তে ঢুকতেই আঁতকে উঠলো l দেখলো রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার মেয়ের শরীর l অতিকষ্টে জোগাড় করা খাদ্যটুকু মাটিতে ফেলে, একটা ছেঁড়া কাপড়ে রক্তে ভেজা মেয়েকে নিয়ে ছুটলো হাসপাতাল l ডাক্তার বাবু, আমার মেয়ে কে বাঁচান ! কি হয়েছে বুঝতে না পেরে ডাক্তার বাচ্চার নার্ভ চেক করতেই বুঝলো “শিশুকন্যা টি আর বেঁচে নেই “l কিন্তু এতো রক্ত কেনো এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলো ছেঁড়া কাপড় সরাতে l বাচ্চার যৌন অঙ্গ কেটে চিড়ে তছনছ, তার থেকেই এতো রক্ত l ধর্ষণ করা হয়েছে ঐ একরত্তি শিশুকন্যা কে l
ডাক্তার সব বুঝে পুলিশ ডাকলো, তখন ও বিনি জানলো না তার মেয়ে কেনো মরলো?স্বেচ্ছা সেবী সংস্থার মহিলারা জানালো মৃত্যুর কারণ l অনেক প্রশ্ন উত্তরের পালা চললো, ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলো, প্রতিবাদ জানিয়ে মোমবাতি মিছিল, ক্যামেরা,মিডিয়া তোলপাড় হলো l কিন্তু বিনি পেটের জ্বালা মেটাতে গিয়ে যে তার কোল খালি হয়ে যাবে আজও মানতে পারলো না l
এভাবেই কতো বিনির শিশুকন্যা আমাদের অগোচরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এই সমাজে তার হিসেব কে রাখবে l সন্তানহারা বিনি আজ লোকের বাড়ি কাজ করে পেটের জ্বালা মেটায় কিন্তু বুকের জ্বালা মেটানোর ওষুধ আজও খুঁজে পেলো না ll