সেদিন বিকেলে চায়ের পেয়ালা হাতে
বলেছিল পাত্রপক্ষ রংটা একটু মরা
তবে মুখশ্রী নয়তো মন্দ, পাত্রী বেশ ভালো
মাস দুই পর একেবারে বিয়ের পিঁড়ি
মেয়েটি তখন সবে দশম শ্রেণী
সমস্ত মুখ জুড়ে কৈশোরের লালিত্য
শরীরে সবে বেড়ে ওঠা
মনে তার প্রবল অনিচ্ছা, তবু প্রকাশে তা বাঁধা
পাত্র ছাড়িয়েছে ত্রিশের কোটা
সবে পুতুল খেলা শেষে
এবার পুতুল সাজার পালা
প্রতিদিন রাতে সোহাগের নামে তীব্র সে যন্ত্রনা
তার ব্যথার চিৎকার কারো সুখের রসদ
দেহে মেলে এক নতুন প্রাণের সাড়া
কেটেছে সময় তার মতো করে
শৈশব শেষ, সেই কোন কাক ভোরে
কেউ করেছে কী খোঁজ?
মরে যাওয়া সেই শৈশবের
প্রসবের কথা? সেতো নিদারুন ব্যথা
নরম শরীর পড়েছে মিইয়ে যন্ত্রণা আর চিৎকারে
সেদিন জমেছিল ভিড়, শৈশবের আঁতুর ঘরে
ফুটফুটে এক নব কিশলয়
উঠেছিল কেঁদে চিল চিৎকারে
ব্যাস্ত সবাই আনন্দে মাতোয়ারা
নব জাতিকার কান্নায় দিশেহারা
এক প্রাণ এলো
এক প্রাণ হলো শ্মশান পথের যাত্রী
এখানে হলো কী শেষ ? নাকি নতুন শুরু
জন্ম নিলো কি দশম শ্রেণীর ছাত্রী?
আমাদের সমাজে এমন ঘটনা বিরল নয়। আজও এমন অনেক প্রাণ অকালে ঝরে যায় কেউ তার খোঁজ রাখে না। একটা নতুন জীবন জীবনের সমস্ত আনন্দ পৃথিবী থেকে তার প্রাপ্য টুকু বুঝে পাবার আগেই নিস্তব্ধ হয়ে যায় তার হৃদকম্পন। তার অপূর্ণ আশা আকাঙ্খা নিয়ে চলে যায় এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে। বলা ভালো, তাকে নিঃস্তব্ধ হতে বাধ্য করা হয় তার এমন করুণ পরিণতিকে মেনে নিতে। শহরাঞ্চলে এমন ঘটনা যদিও কিছু বিরল কিন্তু একটু গ্রামের দিকে গেলে এই ঘটনার নজির কিছু কম নয়। বন্ধ হোক এমন মৃত্যু মিছিল। সকলে বাঁচুক তার নিজের মতো করে।
