তোমার কবিতায়
আমি উচ্ছ্বল ইছামতি
অজানা অভিলাষের আকাঙ্ক্ষায় এক বুক উচ্ছ্বাস মেখে বয়ে যাই চঞ্চল কিশোরীর মতো…
যার দু ‘ চোখ ভরা স্বপ্ন…
তোমার কণ্ঠে
আমি উদাস অলকানন্দা
একতারা হাতে বন্য বাউলিনীর মতো সবকিছু ভুলে স্নিগ্ধ সলিলে অবলীলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি আপন চলার ছন্দে…
যার অলিন্দে উষ্ণতার কলতান…
তোমার দৃষ্টিতে
আমি রূপবতী রূপসা
তন্বী তরুণীর মেদুরতায় আনমনা ঊর্মির শেকড়ের টানে ছুটে চলি সুন্দরের মোহে…
যার হৃদয়ে অভিসারের বিন্দু…
তোমার সান্নিধ্যে
আমি সুগন্ধী সুবর্ণরেখা
জাগরী যুবতীর তেজ বুকে নিয়ে অসীম উন্মাদনায়
ছুটে যাই অনন্ত সাগরের দিকে…
যার শরীরময় আগুন…
তোমার আলিঙ্গনে
আমি পূণ্যবতী পুণ্যতোয়া
স্বপ্ন সত্য হওয়ার আনন্দে পরম আলোয় স্নান করে
পূজারিনীর বেশে অপেক্ষা করি তোমার দেবত্বে…
যার হৃদয়ে মিলনের বাসনা…
তোমার সঙ্গমে
আমি পবিত্রা গঙ্গা
আমি স্বয়ংসম্পূর্ণা নারী
আমি পূর্ণতা দিই সমস্ত উপাচারকে
যার জঠরজুড়ে পদ্মার ভ্রূণ…
যার মাতৃত্বে জেগে ওঠে পবিত্রতা….
যার স্পর্শে দূরীভূত হয় জাগতিক অন্ধকার
তোমার বিরহে
আমি দৈন্য দামোদর
দুঃখের আতিশয্যে বিদীর্ণ বুকে আমি দামাল বানভাসি,
আমি দুখজাগানিয়া….
যার অন্তিমে অঙ্কুরিত হয় সভ্যতার বীজ…
যার কল্যাণে সভ্যতার সোপান
যার অহমিকায় প্রাণের প্রেরণা…
হ্যাঁ আমিই সেই,
আমিই সেই নারী,
আমিই সেই শক্তি,
আমিই সেই সৃষ্টি,
আমিই আদি আমিই অন্ত,
আমিই অতীত আমিই ভবিষ্যত…
যাকে ধারণ করেছো তুমি
যাকে বহন করেছো তুমি
যাকে পূর্ণতা দিয়েছো তুমি
হ্যাঁ তুমিই …
তুমিই সেই পুরুষ
তুমিই…