কতো রঙিন ঘুড়ি কাটাকুটি খেলে মাথার ভিতর।
বালক ভাবে, কিভাবে কি রঙে সাজাবে সে তার অবীন কাকাকে?
বাবাকে দিয়েছে মানুষের রঙ
মায়ের শরীরে দেবী।
অবীন কাকা তো বসে আছে,
ওই দূরে প্রচুর উপঢৌকন নিয়ে
চোখের ভিতরে অন্য কেমন ভাষা।
কি রঙে সাজাবে সে তার অবীন কাকাকে?
বাবা চলে গেলে কেন আসে অবীন কাকা?
তাদের পিছনের দরজা ঠেলে।
সাথে সাথে বন্ধ হয় জানালার পর্দা।
ঘরটাতেও নেমে আসে মাঝরাতের মায়াবী আলো।
তবে কি অবীন কাকা খুব ভালো ?
শ্যাওলা গুলোই ভীষণ দুর্গন্ধ।
এমনি করেই ভাঙছে পাথর
ভাসছে কতো ঘরবাড়ি।
ছোট্ট মাথায় সব কিছু বেভুল হয়ে যায়,
সব কিছুই হয়ে যায় আনাড়ি।
স্কুলে শ্যামল স্যারের কাছে পড়লে অঙ্কে বেশি নম্বর পাওয়া যায়।
নারায়ণ স্যারের কাছে পড়লে ইংরেজি তেও বেশি নম্বর।
কেন?
সে গোলক ধাঁধায়।
এমনি করেই জমতে থাকে পলি নদীর চড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে যদি থাকে অনাদরে।
অবক্ষয় তো এমনি করেই আসে।
জমতে জমতে সব কিশোরের মনেই নানাভাবে পাহাড় তৈরি করে।
ছেলেটা আঁকছে নিজের বাড়িঘর।
মাথার ওপরে আকাশ জুড়ে কালো মেঘ,
টপ করে এক ফোঁটা বৃষ্টি পড়তেই পুরো সাদা পাতাটা অন্ধকার।
দোতলার কোণার ঘরে বসে দাদু
এপার ছেড়ে চললেন ওপার।
জমছে জমুক না এভাবে অবক্ষয়।
ঘর ,বিদ্যালয়, সমাজ তারপর_
প্রকৃতির কোণায় কোণায়।
শ্মশানের চুল্লিতে এখন আর ডোম নেই,
যন্ত্র ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে।
হাসপাতালে, আতুর ঘরে দুরন্ত ঝর্ণা ঝরে পড়ছে।
এখন পাখিরাও ঠিকঠাক ওড়া ভুলে গেছে।
অবক্ষয় এখন পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে দেশ জুড়ে।