নূপুরের ছন্দে, নাচে আনন্দে,
বেলা যায় বয়ে, ডাকেনা তারে কেউ।
ঘুঙুরকে ভালোবেসে
সেই শৈশব কালে, পড়েছিল পায়ে শিঞ্জিনীর বেড়ি ,
গ্রামেরই দেবালয়ে , নৃত্যের তালে হয়েছিল হাতেখড়ি।
তারপর কত বসন্ত আসে যায়,
বসন্তের দূত কানে কানে তারে কত কথা কয়,
সুগন্ধি ফুলের আপন সুবাসে ডাকে ইশারায়।
মনের গবাক্ষে খিল এঁটে
দাঁতে দাঁত চেপে রয়ে যায় দেবতার আঙিনায় ।
নিরুপায়!
আজ আর নেই কোন উপায়,
সে যে দেবালয়ের দেবদাসী !
দেবতাই একমাত্র প্রেম, নৃত্যের তালে তালে,
শিঞ্জিনীর ঝংকার তুলে,
দেবতাকে সন্তুষ্ট করে প্রতি সন্ধ্যায়
দেবালয় রক্ষকের ভোগ লালসা মিটায়।
যৌবনের ফুল শুকিয়ে যায়, কত আঁখিতে বিদ্ধ হয় !
নিজ কামনা বাসনা সরিয়ে রেখে দূরে,
কুলুপ এঁটে মনের ঘরে,
দেবদাসী জ্ঞানে আত্ম বলিদানে
পৌরাণিক মিথের আছিলায়,
নূপুরকে চিরসঙ্গী করে জীবন বয়ে যায় হেলায়।