Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » ভদ্রবেশী হায়না || Roma Gupta

ভদ্রবেশী হায়না || Roma Gupta

পারিজাত ও সুমনা, তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়ে এসেছে নতুন ফ্ল্যাটে। গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান আগেই করা হয়েছিল। কর্মসূত্রে বছর দুই মুম্বাইয়ে কাটিয়ে তারপর নিজভূমি কলকাতায় আসা বরাবরের জন্য থাকতে। অতুলবাবুর সঙ্গে গৃহপ্রবেশের সময় থেকে পরিচয়। তাদের অম্রিকা এপার্টমেন্টের চারতলায় তিনি থাকেন। সুন্দর , সুঠাম ভদ্রলোক। একটাই ছেলে, কানাডায় থাকে। সস্ত্রীক ফ্ল্যাটের সকলের সঙ্গে মিলেমিশে আনন্দেই থাকেন। সকলে ওনাকে নির্ভেজাল নিপাট ভদ্রলোক বলেই জানেন।পারিজাতের ফ্ল্যাট তিনতলায়। পারিজাত -সুমনার মেয়ে ডোনা’কে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুব স্নেহ করেন। মাঝে মাঝে ডোনা যায় দাদু ঠাম্মি তথা অতুলবাবু ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে লুডো , দাবা খেলতে। সুমনা পারিজাত দুজনেই চাকরি করে। তাই ডোনা স্কুল থেকে এসে বিকালে যাতে ওনাদের বাড়ি সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত থাকতে পারে তাই সুমনা অতুলবাবুকে ডোনার টিউটর হিসেবে সায়েন্স সাবজেক্টটা দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলেন এবং এরজন্য যথাযথ ফিস্ দেয়। সাধারণত সাতটা, সাড়ে সাতটার মধ্যে সুমনা বাড়ি চলে আসে, ডোনাও পড়া শেষে ফেরে। এমনি করেই নিশ্চিন্তে চলে দিনযাপন।

অতুলবাবুর স্ত্রী লীনাদেবী প্রতিদিনই বিকালে ফ্ল্যাটের অন্যান্য মহিলাদের সাথে সান্ধ্যভ্রমণ,গল্প,আড্ডা করতে বেরিয়ে যান। মাসকয়েক গত হলে অতুলবাবুর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ডোনার উপর। তিনি নানান অছিলায় ডোনাকে অশালীনভাবে আদর, চুম্বন করেন। ডোনাকে ভয় দেখায়, বাড়িতে জানালে কমিটিকে জানিয়ে তাদের ফ্ল্যাট থেকে তাড়িয়ে দেবে। ডোনা ভয়ে বাবা- মা’কে কিছু জানায় না। মা’কে শুধু বলে আমি দাদুর কাছে পড়তে যাবোনা।

সুমনা ভাবে অতুলবাবু কড়াভাবে পড়ান বলে মেয়ের সেখানে যেতে অনিহা। তাই জোর করে পড়তে পাঠায়। ডোনা দিন দিন চুপ হয়ে যাচ্ছে, সর্বদা মনমরা ভাব। সুমনার নজর এড়ায় না। সুমনা কারণ জিজ্ঞাসা করলে ডোনা তেমন কিছু বলেনা। বেশ কিছুদিন পর ডোনা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু খেতে চায়না, শরীর দুর্বল, চোখের কোণে কালি পড়েছে, বমিবমি ভাব। সুমনা চিন্তিত। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার বেডে শুইয়ে চেক করবার জন্য গায়ে হাত দিতেই ডোনা লাফিয়ে উঠে মা’কে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদে আর বলে বাড়ি চলো, ডাক্তার ভালো না, গায়ে হাত দেয়। ডাক্তার অবাক, সুমনা হতবম্ব। কিন্তু তরুণ ডাক্তারের সন্দেহ হয়, নিশ্চয় মেয়ের সঙ্গে অশালীন কিছু ঘটেছে। তাই সুমনার থেকে ডোনার প্রাত্যহিক জীবনধারা জেনে কাউন্সিলিং করাতে উপদেশ দেন। সুমনা বাড়িতে এসে পারিজাতকে সব জানায়।

দুজনে মিলে ডোনা’কে হাজার প্রশ্ন করলেও ডোনা কিছু বলতে চায়না। শেষে তাঁরা কাউন্সিলিং -এর ব্যবস্থা করে। তাতেই জানা যায় অতুলবাবু ডোনাকে যৌন অত্যাচার করেন এবং বাবা-মা’কে জানালে ফ্ল্যাট থেকে তাড়িয়ে দেবার ভয় দেখান। সুমনা ডোনাকে অভয় দিয়ে অতুলবাবুকে হাতেনাতে ধরবার জন্য মেয়েকে অতুলবাবুর ঘরে পৌঁছে দেবার ছলে রুমে ঢুকে মোবাইল ভিডিও মোডে দিয়ে লুকিয়ে সেট করে চলে আসে। অতুলবাবুর সঙ্গে কথা বলে তাঁর বেশ প্রশংসা করে। যথারীতি নোংরামী আচরণের পর মডোনাকে ছুটি দেওয়ার সময় স্বামী স্ত্রী দুজনে গিয়ে, পারিজাত অতুলবাবুকে কথায় ব্যস্ত রাখে আর সুমনা মোবাইল নিয়ে চলে আসে। ভিডিওতে ধরা পড়ে অতুলবাবুর কামুক আচরণ। সঙ্গে সঙ্গে ডোনাকে নিয়ে স্থানীয় থানায় প্রমাণ দেখিয়ে অতুলবাবুর নামে ডায়েরি করে। পুলিশ এসে অতুলবাবুকে অ্যারেস্ট করে এবং পস্কো আইনে জামিন অযোগ্য ধারায় কেস দেয়।

ফ্ল্যাটের সকলে ঘটনা দেখে স্তম্ভিত। এমন ভালো মানুষ , এপার্টমেন্টের হর্তাকর্তা, দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করেন,পরোপকারী, সকলকে সম্মান দেন তাঁর এরকম চরিত্র! মানতে চায়না ফ্ল্যাটের লোকেরা ;সুমনাকেই দোষারোপ করে। বাধ্য হয়ে সুমনা ভিডিও দেখালে সকলে হতবাক। বলে, এ-তো ভদ্রবেশী হায়না! এমন কাজের উপযুক্ত শাস্তি হওয়াই উচিত। স্বামীর কান্ডে অতুলবাবুর স্ত্রী লজ্জিত। বলেন, ওর কৃতকর্মের শাস্তি উনি পাক আমিও চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *