ফি বছরে বারে বারে সে আসে আমার দুয়ারে দ্বারে।
কেমনে ফিরাবো তাহারে তারে?
সে এলেই শুরু হয় যজ্ঞের আয়োজন।
গাছেরা কানাকানি করে, ফোটায় ফুল ।
তখন বৃক্ষের শাখায় শাখায় পত্রের খুব প্রয়োজন।
বিজন দুপুরে গভীর রাতেও সমুদ্রের ডাক শুনে
কোকিল ডাকে।
হুতুমেরা ডানা মেলে আঁধারেও জোনাকি জ্বালায়।
কৃষ্ণচূড়া হাসে, পলাশ ফুল তখন ডুবে যায় গানের নেশায়।
তুমি এসেছিলে রৌপ্য পাত্রে একফালি চাঁদ ডুবিয়ে।
তুমিতো সজিয়েছ কুঞ্জ আমার
কৃষ্ণচূড়াকে সঙ্গে নিয়ে।
পলাশের রঙে আমার বিছানা সজিয়েছ
একবুক অহংকার নিয়ে।
তুমি কি আমায় এতই ভালোবাসো?
তবে কেন ছেড়ে যাও ফি বছর?
চলে যাচ্ছ বসন্ত, যাও।
নাহলে তুমিও শকুন্তলার মতো হবে।
শকুন্তলা এসেছিল আমার জীবনে কোন বিহান কালে।
তুমি এলেই প্রকৃতি যেমন সাজে নানা রঙে।
আমাকে দেখেই শকুন্তলাও সাজতো সেই রকমে।
চোখে আইলাইনার, ঠোঁটে গাঢ় রক্তিম আভা।
বসন্ত তুমি এলে প্রকৃতিও গান গায় মনের আনন্দে।
পুরো বছর নিশ্চুপ থেকে কোকিল শোনায় গান তোমাকে।
এখনও শকুন্তলা সাজে, সেভাবে কি আমার মন মজে?
প্রতিটি রান্নায় যেমন নুন লাগে, শকুন্তলাও আমার সেরকমই জীবনে।
তুমি চলে না গেলে প্রকৃতির কাছে সেই ব্যবহারই পেতে।
শকুন্তলাকে দেখে আমার মনে এখন কোনো বাতাস জাগেনা।
শকুন্তলা এখনও গান গায় গুনগুন করে।
বসন্ত তুমি চলে যাও,
নাহলে তোমার জীবনেও এরকমই দ্রোহ কাল হবে।
বসন্ত চলে যাও ভালোবাসা নিয়ে।
ফি বছর এসো আবার ঘুরে,
তোমার ভরা কমন্ডুলতে এক রাশ রং আর আলো নিয়ে।
বসন্ত চলে যাও,
এই বিদায় বেলাতে।