আত্মজ
শ্বশুর বাড়িতে যতদিন ছিলাম শান্তিতে থাকতে দেয় নি। তাদের ছেলে বিয়ের পর মহিলা সেক্রেটারিকে নিয়ে কি অশান্তি। শাশুড়ি বলতেন সোনার আংটি আবার বাঁকা! এদিকে এক বছরের মেয়েকে নিয়ে চরম অশান্তি। আমার ও পরিবারের প্রতি ঘৃণায় মেয়েটাকে ওদের দিয়ে দিলাম। নাতনি’কে ওরা অসম্ভব ভালোবাসত। শুধু আমি অপাংক্তেয়। আমি মেয়ের ভবিষ্যত ভেবে দাবি করি নি। বাবার বাড়িতে ফিরে এসে পড়াশোনা শুরু করি।এর মধ্যে বাবা ও মা গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। বাড়ি বিক্রি করে শিলিগুড়ি পিসির বাড়ি চলে যায়।
মাধ্যমিক স্কুলে পড়াতে শুরু করি।দিন তো এগিয়ে চলে। মাঝে মাঝে মেয়ের কথা বেশ মনে পড়ে।পুরনো নম্বরে ফোন করে প্রাক্তন বরকে পাই না। আজকে মেয়েটার দশবছরের হলো। কেমন হয়েছে কে জানে! কোলকাতার কোনো বড় স্কুলে পড়ে হয়ত।এখনো যে অচেনা, কোথায় খুঁজে পাবো। সম্প্রীতি নামটা রেশন কার্ডে ছিল , এখন তাই নাম নিশ্চিত আছে।।
পক্স হবার জন্য মাস খানেক স্কুল যায় নি আমি। সুস্থর হবার পরে পঞ্চম শ্রেণী কক্ষে গিয়ে নাম ডাকতে সম্প্রীতি রায় শুনে চমকে উঠি। জিজ্ঞেস করি তুমি নতুন তো। আগে কোথায় পড়তে! মেয়েটি বলে কাঁথি।মনে মনে ভাবি তাহলে অন্য কেহ।স্কুল চলাকালীন মেয়েটি’কে জিজ্ঞেস করি ,এই তোর বাবার নাম কি?
শতদল রায়,আদি বাড়ি কোলকাতা। এবার চমকে উঠে বলি মাম্পি।হ্যাঁ দিদিমনি, ঠিক ধরেছেন। আপনি আমার বাবাইকে চেনেন! আমার নাম মাম্পি জানেন। আমি আদরে চুম্বনে মেয়েকে ভরিয়ে দিই।
দিদিমনি তুমি কি আমার মাসিমনি হও। আমার মাকে তোমার মতোন দেখতে। আমার জন্মের পর মারা গেছেন। তোমার ছবি তো আমার ঘরে মালা পরিয়ে রাখি। নতুন মা বলেছে মা’কে প্রতিদিন মালা গেঁথে পরাবি। তোমার মা কোথায়!
এখন নেই দিদিমনি। কয়েক বছর হলো আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।
নিজের মেয়ের সাথে আলাপ হবার পরে এখনো যে অচেনা লাগে।সৎমা যাবার আগে মেয়ের কানে বিষ ঢেলে গেছে। আমি জীবিত থাকলেও মালা পরাচ্ছে।মেয়েটির ছুটির পর আমার কথামতো অপেক্ষা করে। আমি ওদের বাসায় গিয়ে দেখি আমার প্রাক্তন শাশুড়ি কাঁদছে। শ্বশুর যে নেই শূন্য সিঁথি দেখে বুঝতে পারি।মাম্পি ইনি তোর আসল মা রে!মালাটা সড়িয়ে দে।
মেয়ে ও বাবা আমাকে আটকে রাখে। আমি ও সব ভুলে প্রাক্তনকে পুনর্বিবাহ করি।সম্প্রীতিকে নিয়ে আমরা ভালো আছি।