Skip to content

Banglasahitya.net

বাঙালির গ্রন্থাগারে বাংলার সকল সাহিত্যপ্রেমীকে জানাই স্বাগত

"আসুন সবে মিলে আজ শুরু করি লেখা, যাতে আগামীর কাছে এক নতুন দাগ কেটে যাই আজকের বাংলা............."

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আমাদের মেইল করুন - [email protected] or, [email protected] অথবা সরাসরি আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » ১৫০০ সাল || 1500 Saal by Taslima Nasrin

১৫০০ সাল || 1500 Saal by Taslima Nasrin

অডিও হিসাবে শুনুন

শতবর্ষ পরে এই কবিতাটি কেউ না কেউ পড়বে…
যে পড়বে সে যদি নারী হয়, সে কি তখনও কেবল নারীই?
ধরে নিচ্ছি নারী নয়, সে তখন আদ্যোপান্ত মানুষ’
সে আর চার দেওয়ালে বন্দি নেই, তার পায়ে যে সহস্র বছরের শেকল ছিল,
সে শেকল নেই
তার হাতে যে কুরশি-কাঁটা আর খুন্তি ছিল, নেই।
হাতে উঠেছে কলম, কাস্তে, কোদাল আর কলকবজা।
সে মানুষের মতাে হাঁটে, দৌড়ােয়, হা হা হাসে
মাছের মুড়াে খায়, দুধের সরও, তাকে আর ভুগতে হয় না পুষ্টিহীনতায়।
সে যদি নারী হয়,
তাকে কেউ পাঠশালায় না পাঠিয়ে
ঠেলে দিতে পারছে না জ্বলন্ত উনুনের কাছে, তাকে আর
পরাতে পারছে না বাল্যবিবাহের ফাঁস, তাকে আর
আবৃত করতে পারছে না ভুতুড়ে বােরখায়।
সে নিশ্চয় তখন দাবি করতে পারে সমান উত্তরাধিকার
সে নিশ্চয় তখন দাবি করতে পারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্মান
সে নিশ্চয় তখন দাবি করতে পারে জরায়ুর স্বাধীনতা, কন্যা জন্ম
সে নিশ্চয় তখন দাবি করতে পারে চাঁদ বা সূর্যের
নীচে তার অবাধ বসবাস!

যে পড়ছে এই কবিতা, সে নারী বা পুরুষ হােক
সে নিশ্চয় ধর্মের গ্রাস থেকে ইতিমধ্যে মুক্ত
তাকে আর পাঁচবেলা কপাল ঠুকতে হয় না মেঝেয়
তাকে আর প্রসাদ খেতে হয় না ঠাকুরের।
মসজিদ-মন্দির ভেঙে গজিয়ে গেছে মনােলােভা ফুলের বাগান।
জুসমে জুলুসে নেই, পিরের মাজার নেই, স্বৈরাচারের উৎপাত নেই, কাঁটাতার নেই
বদলে দিগন্ত অবধি রজনীগন্ধার ঘ্রাণ, মুগ্ধ ভালবাসা।

শতবর্ষ পর নেতার বাড়িতে, শিক্ষাঙ্গনে, শহরে, গ্রামে কি
দ্রিম দ্রিম বর্ষণ চলে গুলির? ককটেলের?
দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র, খরা, ঘূর্ণিঝড়, সন্ত্রাসের দেশে
অক্ষত আছে কি শহিদ মিনার, স্বােপার্জিত স্বাধীনতা,
অপরাজেয় বাংলা, জয়দেবপুরের মুক্তিযােদ্ধা, স্মৃতিসৌধ ?
তখনও কি একুশের ভােরে খালি গায়ে ফুল দিতে ভিড় করে অগণন বাঙালি?
তখনও কি বৈশাখে, শরতে, অঘ্রানে, ফাগুনে উৎসব হয়
প্রথম প্রভাতের, সাদা মেঘের, নবান্নের, ঝরাপাতার হাওয়ার…
তখনও কি মানুষ মানুষের জন্য গান গায়, কাঁদে?

যে তুমি পড়ছ এই কবিতা, তুমি কি জানাে শত বছর আগে
কী ভীষণ স্বপ্নহীন অন্ধকারে একাকী হেঁটেছিলাম
নত, ন্যুব্জ নষ্ট মানুষেরা ? দারিদ্রে, পারমাণবিক ধোঁয়ায়,
অশিক্ষায়, অজ্ঞতায়, জরায়, ব্যাধিতে ক্লান্ত ক্লিষ্ট…
তুমি বা তােমরা নিশ্চয় হাতের মুঠোয় নিতে পারাে।
সততা ও সমতার আলােকিত ব্রহ্মাণ্ড ?
আমরা পারিনি।

এই সুফলা মাটির শরীর ফুঁড়ে ততদিনে নিশ্চয় জন্মেছেন আরেক রামমােহন,
আরেক ঈশ্বরচন্দ্র, ক্ষুদিরাম, সুভাষ বসু, আরেক রবীন্দ্রনাথ,
জন্মেছেন সূর্য সেন, প্রীতিলতা, বেগম রােকেয়া, শেখ মুজিব,
জন্মেছেন নূর হােসেন। শতবর্ষ পরে সমৃদ্ধ বাংলায়,
আমার কবিতা যদি ধুলােয় লুটোয়, তবু
মাছ-ভাতে বাঙালি বাঁচুক,
গােলাপের গন্ধে বাঁচুক স্বপ্নবান মানুষ
শুদ্ধ স্নিগ্ধ ভালবাসায় বাঁচুক, বৃক্ষেরা সবুজ হােক আরও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

-+=